মৌলভীবাজার শহরের মুসলিম কোয়ার্টার এলাকায় একটি বহুতল ভবনের ছয় তলা থেকে শুক্লা সিং (২৪) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতের এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতের কোনো এক সময়ে ভবনের একটি ফ্ল্যাটে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে সেখানে গিয়ে শুক্লা সিংয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, শুক্লা সিং শহরের পরিচিত প্রতিষ্ঠান ‘মৌলভীবাজার আধুনিক চক্ষু হাসপাতাল’-এর রিসিপশন (অভ্যর্থনা) বিভাগে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে তিনি মুসলিম কোয়ার্টারের ওই বহুতল ভবনের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
হঠাৎ এ ঘটনার খবরে সহকর্মী, প্রতিবেশী ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। কর্মস্থলে শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের একজন মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন শুক্লা সিং। তার এমন মৃত্যু অনেককেই হতবাক করে দিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চালানো হচ্ছে। ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের দিকে হঠাৎ পুলিশ আসার পর এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়। পরে তরুণীর মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের পরিবেশ নেমে আসে। অনেকেই ঘটনাটিকে রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। পরিচিতজন ও সহকর্মীরা শুক্লা সিংয়ের অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকে দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, সেটিও গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
মৌলভীবাজার শহরে এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্ত শেষ করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করবে পুলিশ।
আকাশজমিন /
আরআর