গাইবান্ধার সাঘাটায় এক নারীর পথরোধ করে টাকা ছিনতাই ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া সদর উপজেলার চকঝপু গ্রামের বাসিন্দা রিপা খাতুন (২৪) গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে সাঘাটা উপজেলার ঘুড়িদহ ইউনিয়নের পবনতাইড় গ্রামের ডাকবাংলা মোড় এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তার পথরোধ করে।
এ সময় হলদিয়া ইউনিয়নের বেড়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে হুমায়ুন কবির (২৭) ও মৃত রঙ্গু মিয়ার ছেলে সোহাগ সরকারসহ কয়েকজন তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তারা রিপা খাতুনের কাছে থাকা প্রায় ২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেয়। এ ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং পরে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের সহায়তায় অভিযানে নেমে দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম বলেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সবসময় কাজ করছে। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, রাতে নির্জন সড়কে চলাচলের সময় প্রায়ই নানা ধরনের অপরাধের আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে নারী ও একাকী যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তারা সড়কে পুলিশের টহল আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ছিনতাই ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির মাধ্যমে এমন অপরাধ দমনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে কাজ চলছে। একই সঙ্গে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আকাশজমিন /
আরআর