ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ অপহৃত কালাতের রাজপুত্র শাহজাদা আহমেদজাই 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দ নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী পরীক্ষকের সামনে পুরুষরা কম ব্যথা অনুভব করেন: নতুন গবেষণা উইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক! কাঁদুনে গ্যাসে ফরাসি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ, দাবি বিরোধী নেতা আইজেনকোটের ফেনারবাখচেকে হারিয়ে ইউরোলিগে ভ্যালেন্সিয়ার দুর্দান্ত জয়

নবাবগঞ্জে বিএমডিএ সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগ


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬ সময় : ৪:২২ পিএম

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)’র গভীর নলকূপ পরিচালনা ও পাম্প অপারেটর নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় কৃষকদের দাবি, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা বেড়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর পাম্প অপারেটর নিয়োগের জন্য পরীক্ষা নেওয়া হলেও সেটি মূলত আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আগের অপারেটরদেরই পুনরায় বহাল রাখা হয়। নতুন প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন বাবদ ২০০ টাকা ব্যাংক ড্রাফট নেওয়া হলেও তাদের সুযোগ দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একই অপারেটর বহাল থাকায় তারা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এতে করে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তারা অভিযোগ করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা না থাকায় প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

ভুক্তভোগী কামরুজ্জামান অভিযোগ করে বলেন, “নবাবগঞ্জ উপজেলার পূর্ব জয়দেবপুর এলাকায় ২০১১ সালে বরেন্দ্র প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত টাকা জমা দিই। ২০১৫ সালে প্রকল্প চালু হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর ১০০ টাকা দিয়ে পাম্প অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। কিন্তু ২০২৫ সালে বরেন্দ্র অফিসের এক কর্মকর্তা আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি টাকা না দেওয়ায় পরে জানানো হয়, এবার পরীক্ষা দিয়ে পাম্প অপারেটর নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি ও আমার মেয়ে ২০০ টাকা দিয়ে ফরম পূরণ করে পরীক্ষায় অংশ নিই। কিন্তু বর্তমানে যাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তিনি পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন না। আমি তাকে পরীক্ষা দিতে দেখিনি। আমার ধারণা টাকার বিনিময়ে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

অন্যদিকে বর্তমানে পূর্ব জয়দেবপুর বরেন্দ্র গভীর নলকূপের দায়িত্বে থাকা পাম্প অপারেটর আব্দুর রহিম বলেন, “আমি নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি এবং সেখান থেকেই নিয়োগ পেয়েছি। আমাদের এলাকা থেকে আমি একাই পরীক্ষা দিয়েছি। পরে কে দিয়েছে তা জানি না।”

মশিপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মফিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা কৃষকরা এখন বরেন্দ্রর কাছে জিম্মি। বরেন্দ্র অফিসার এত খারাপ হয় আগে কখনো জানা ছিল না। কত টাকা ঘুষ খায়, কত টাকায় বিক্রি হয় জানি না। আমরা চাই কৃষক বাঁচুক। কিন্তু এই অফিসার নবাবগঞ্জে থাকলে কৃষক বাঁচবে না।”

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএমডিএ নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, “অর্থের বিনিময়ে কোনো পাম্প অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হয় না। এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়।”

নিয়োগ পরীক্ষা বিষয়ে তিনি বলেন, সাধারণত একটি এলাকার সব প্রার্থীর পরীক্ষা একসঙ্গেই নেওয়া হয়। তবে পূর্ব জয়দেবপুর বরেন্দ্র গভীর নলকূপের অপারেটর নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়টি প্রায় এক বছর আগের হওয়ায় এখন বিস্তারিত মনে নেই বলে জানান তিনি।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর