ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৭ দফা দাবি না মানলে আরেকটি বিপ্লব হবে: জামায়াত আমীর আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় সুইজারল্যান্ডে রুমমেটের মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি গ্রেপ্তার আজ থেকে শুরু হচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম মাঝপথেই সফর বাতিল করে দেশে ফিরলেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন রাশিয়ার হামলা রুখতে ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র নেতানিয়াহুকে হটিয়ে বিকল্প সরকার গঠনে আলোচনায় বিরোধীরা তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় বাবার মামলা, বন্ধু দ্বীপ গ্রেপ্তার ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ শুরু

সড়ক নির্মাণে উন্নয়নের নামে অনিয়ম, ক্ষোভে এলাকাবাসী


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬ সময় : ৫:৫৩ পিএম

খুলনার পাইকগাছায় সরকারি সড়ক নির্মাণ কাজে প্রকাশ্যেই নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। উন্নয়নের নামে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের এ ঘটনা এখন পুরো এলাকাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে কানাখালী ডাবল ব্রিজ থেকে এলিবাড়ী খাল হয়ে সাবেক মনোহার মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৪৫০ মিটার দীর্ঘ একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে এ অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণ কাজে ভাঙা, নিন্মমানের ও ব্যবহার অনুপযোগী ইট ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সড়কের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, কাজ শুরুর শুরু থেকেই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো নজরদারি বা তদারকি চোখে পড়ছে না। ফলে সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত এ উন্নয়ন প্রকল্প শুরুতেই টেকসই হওয়ার বদলে অল্প সময়ের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকারি কাজ হলেও এখানে মান বজায় রাখা হচ্ছে না। ভাঙা ও নিম্নমানের ইট দিয়ে যেভাবে কাজ চলছে, তাতে অল্প সময়েই পুরো সড়ক নষ্ট হয়ে যাবে। উন্নয়নের নামে এটা আসলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।”

তারা আরও বলেন, বর্ষা মৌসুম আসার আগেই যদি এমন মানহীন উপকরণ দিয়ে কাজ শেষ করা হয়, তাহলে কয়েক মাসের মধ্যেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এতে স্থানীয় জনগণ চরম ভোগান্তির শিকার হবে এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সরেজমিন তদন্ত করে কাজের মান যাচাই করুক এবং প্রকল্পে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত না করলে এ ধরনের প্রকল্প ভবিষ্যতে কোনো সুফল বয়ে আনবে না বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে গড়ইখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আ: মমিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কাজ নিয়ম মেনেই করা হচ্ছে। কিছু অভিযোগ উঠেছে, তবে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। যদি কোথাও অনিয়ম পাওয়া যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে সচেতন মহলের প্রশ্ন—সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে শুরুতেই যদি এমন গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ ওঠে, তাহলে মাঠপর্যায়ে তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। তারা বলছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে জনগণের আস্থা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয়ও বাড়বে।

স্থানীয় পর্যায়ে এ ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে এবং বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জোরালো হচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর