ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৭ দফা দাবি না মানলে আরেকটি বিপ্লব হবে: জামায়াত আমীর আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় সুইজারল্যান্ডে রুমমেটের মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি গ্রেপ্তার আজ থেকে শুরু হচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম মাঝপথেই সফর বাতিল করে দেশে ফিরলেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন রাশিয়ার হামলা রুখতে ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র নেতানিয়াহুকে হটিয়ে বিকল্প সরকার গঠনে আলোচনায় বিরোধীরা তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় বাবার মামলা, বন্ধু দ্বীপ গ্রেপ্তার ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ শুরু

নিজ কন্যাকে ধর্ষণ চেষ্টায় বাবার ১০ বছরের কারাদণ্ড


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬ সময় : ৭:৪১ পিএম

সিরাজগঞ্জে নিজ শিশু কন্যাকে ধর্ষণের চেষ্টার দায়ে পাষণ্ড বাবা আক্তার হোসেনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও কারাভোগ করতে হবে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এর বিচারক বেগম সালমা খাতুন জনাকীর্ণ আদালতে আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আক্তার হোসেন সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানার বাসুদেবকোল গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হোসেনের সঙ্গে তার স্ত্রীর কয়েক বছর আগেই বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে শিশুটি তার বাবার কাছেই থাকত। গত বছরের (২০২৫) ১২ এপ্রিল বিকেলে শিশুটি বাড়ির পাশের স্কুল মাঠে খেলছিল। এসময় আক্তার হোসেন তাকে ডেকে পাশের একটি নির্জন বাঁশঝাড়ে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী বিষয়টি দেখে ফেলেন। তারা এগিয়ে আসলে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ভুক্তভোগী শিশুর মামা বাদী হয়ে পরবর্তীতে সলঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে আক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ এবং জেরা শেষে আদালত আজ রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকে আক্তার হোসেন কারাগারেই ছিলেন এবং বিচার চলাকালীন সময়েও তিনি হাজতে ছিলেন।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টরা জানান, এমন একটি জঘন্য অপরাধের যথাযথ বিচার হওয়ায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে একটি কঠোর বার্তা যাবে এবং পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, আদালত রায়ে আসামিকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও কারাভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায় ঘোষণার পর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের মতে, এমন ঘটনা সমাজের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং পারিবারিক সম্পর্কের ভেতরে এমন অপরাধ সমাজকে নাড়িয়ে দেয়। তারা এ ধরনের অপরাধের দ্রুত ও কঠোর বিচার অব্যাহত রাখার দাবি জানান।


এ সম্পর্কিত আরো খবর