ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ঢাকা–মাওয়া–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে দুই কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে ভাঙ্গা উপজেলার পুলিয়া ফ্লাইওভারে এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গা থেকে ঢাকাগামী একটি বড় কাভার্ডভ্যানের পেছনে একই লেনে দ্রুতগতিতে আসা একটি ছোট কাভার্ডভ্যান সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ছোট কাভার্ডভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনের যানবাহনে আঘাত করে এবং দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ওই কাভার্ডভ্যানের চালক ও হেলপার নিহত হন। দুর্ঘটনার পর এক্সপ্রেসওয়েতে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিহতরা হলেন লালমনিরহাট সদর উপজেলার শিশির কুমারের ছেলে চালক প্রবীর কুমার (৪০) এবং কুড়িগ্রামের বাসিন্দা হেলপার জুয়েল (২০)। তাদের মরদেহ ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে জানালে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হয়।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা এবং শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনাকবলিত দুই কাভার্ডভ্যান জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরের দিকে এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের গতি তুলনামূলক বেশি ছিল। এ সময় হঠাৎ করেই পেছন থেকে আসা ছোট কাভার্ডভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা বড় কাভার্ডভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং যানবাহন দু’টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে উদ্ধার কাজে সহায়তা করেন। তবে সংঘর্ষের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে চালক ও হেলপারকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
শিবচর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাকিল আহম্মেদ বলেন, এক্সপ্রেসওয়ের পুলিয়া ফ্লাইওভারের ওপর দুটি কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই চালক ও হেলপার নিহত হন। মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, এ ঘটনায় এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, অতিরিক্ত গতি ও অসতর্কতার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। তারা সড়কে নজরদারি ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।