ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:
বিএনপি এখন বহিরাগত ও হাইব্রিড অপশক্তির হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সরদার।
তিনি বলেন, ঈশ্বরদী উপজেলাসহ পুরো পাবনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। দলীয় কাঠামোর ভেতরে অনুপ্রবেশকারী ও বহিরাগত কিছু গোষ্ঠীর প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকৃত ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা অবমূল্যায়নের শিকার হচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিএনপির বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি “ভয়ানক” উল্লেখ করে বলেন, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হলে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
গতকাল রাতে পাকশী গোল ঘরে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত পাকশী ইউনিয়ন বিএনপির বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় স্থানীয় ও জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি, সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাকশী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ আব্দুস সোবান। তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিভিন্ন ক্ষোভ ও সাংগঠনিক অসন্তোষের বিষয় তুলে ধরেন এবং দলীয় ঐক্য জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পাকশী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পাকশী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জাকিউল ইসলাম তপন সরদার। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নেতাকর্মীরা নানা ধরনের সাংগঠনিক জটিলতার মধ্যে থাকলেও তৃণমূলের শক্তি এখনো বিএনপির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা আমিনুল ইসলাম, কবীর আহমেদ, মনির আহমেদ হিরোক, সুলতানুল হক শাহিন, শ্রমিক দল সভাপতি সোহেল রানা, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সোহেল রানা, মোহাম্মদ আলী কাজল, রফিকুল ইসলাম কলম, ভিপি সাইদুল ইসলাম লিপন, আশিকুর রহমান, সিপলু, আব্দুস সালাম রঞ্জু ও জাহিদ হাসান মিঠুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করে ঐক্য ফিরিয়ে আনতে না পারলে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির কার্যক্রম আরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তারা স্থানীয় পর্যায়ে ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানান।
সভায় নেতারা আরও বলেন, দলকে সুসংগঠিত করতে হলে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও গোষ্ঠীগত বিভাজন দূর করে একযোগে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তারা।