গতকাল বৃহস্পতিবার বিএসটিআই’র বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিএসটিআই’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফুন্নেসা খানম। অভিযানে প্রসিকিউটিং কর্মকর্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফিল্ড অফিসার (সিএম) ফারদিন ইসলাম এবং পরীক্ষক (রসায়ন, মেট্রোলজি) ইলিয়াস ভূঞা ইমন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করে পুলিশের একটি দল।
অভিযানকালে কারখানার ভেতরে বিপুল পরিমাণ নকল ও নামী ব্র্যান্ডের সদৃশ মোড়ক জব্দ করা হয়। তদন্তে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে মানহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে মশার কয়েল উৎপাদন করছিল।
কারখানায় পাওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মধ্যে ছিল গোল্ডেন প্লাস, ঈগল ম্যাক্স, নাইট ফ্রেশ, ন্যাচারাল হাই পাওয়ার, ন্যাচারাল নিম পাতা, নিম পাতা, তুলসী পাতা ও চমক। এসব ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে বাজারজাত করা হচ্ছিল নিম্নমানের কয়েল।
বিএসটিআই কর্মকর্তারা জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদিত এসব কয়েল জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নিম্নমানের রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি ও পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা থাকে।
অভিযানে কারখানার উৎপাদন পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পাওয়া যায়। যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই শ্রমিকদের দিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। এছাড়া কোনো মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও ছিল না।
ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সিএম লাইসেন্স ও মোড়কজাত নিবন্ধন সনদের জন্য আবেদন করার নির্দেশ দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না নিলে কারখানাটি স্থায়ীভাবে সিলগালা করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিএসটিআই জানিয়েছে, বাজারে নকল ও মানহীন পণ্যের বিস্তার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য উৎপাদনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বিএসটিআই’র এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সন্দেহজনকভাবে কয়েল উৎপাদন চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযানের ফলে এখন অবৈধ কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি বাড়বে বলে আশা করছেন তারা। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় মানহীন ও অনুমোদনহীন পণ্যের বিরুদ্ধে বিএসটিআই’র এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।