ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই, সিঙ্গাপুরে প্রয়াণ


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৬ মে, ২০২৬ সময় : ৫:২১ পিএম

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি:

মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই। শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেয়ে তাসনিম সিনহা। বর্ষীয়ান এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জ জেলাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তিনি পুনরায় মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। একই সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলেও, মারাত্মক অসুস্থতার কারণে পরবর্তীতে সেই মনোনয়ন পরিবর্তন করা হয়। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

মিজানুর রহমান সিনহা ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর স্থানীয় বাড়ি ‘সিনহা হাউজ’ দীর্ঘ দিন ধরে এলাকার একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তাঁর বাবা হামিদুর রহমান সিনহা ছিলেন বাংলাদেশের ওষুধ ব্যবসার অন্যতম পথিকৃৎ এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর মায়ের নাম নূরজাহান সিনহা। মিজানুর রহমান সিনহার শৈশবের একটি বড় সময় কেটেছিল কলকাতায়। পরবর্তীতে তিনি নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৬৪ সালে হাবিব ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন মিজানুর রহমান সিনহা। বাবার মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালে তিনি একমি গ্রুপে যোগ দেন এবং ১৯৮৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব দক্ষতার সাথে পালন করে আসছিলেন। ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিলেন। সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ১৯৯০ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন। পরবর্তীতে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ২২ জানুয়ারি ২০২০ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বিএনপির মনোনয়নে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে চারদলীয় জোট সরকার গঠিত হলে তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কাজ ও দানশীলতার জন্যও এলাকায় তাঁর ব্যাপক পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা ছিল।

সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীর মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আব্দুল্লাহ, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ এবং মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া জেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর