বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধূলিয়া ইউনিয়নের চাঁদকাঠী গ্রামে অলৌকিক ও অভাবনীয়ভাবে এক সঙ্গে জন্ম নেওয়া ৫ সন্তানদের দরিদ্র পরিবারকে লালন-পালনের সুবিধার্থে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। বীর উত্তম সামসুল আলম তালুকদারের সুযোগ্য সন্তান এবং এভিআর বাংলাদেশ গ্রুপের সম্মানিত চেয়ারম্যান হাসিব আলম তালুকদার সম্পূর্ণ নিজস্ব তহবিল থেকে এই মানবিক সহায়তা প্রদান করেন। আজ শনিবার (১৬ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসিব আলম তালুকদারের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে এ্যাডভোকেট ঝর্না বেগম ৫ সন্তানের মা লামিয়ার বাবার বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতে সহায়তার এই অর্থ তুলে দেন।
আর্থিক সহায়তা পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পাঁচ সন্তানের মা লামিয়া এভিআর বাংলাদেশ গ্রুপের চেয়ারম্যান হাসিব আলম তালুকদারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অতীত স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “২০২১ সালে বাউফলের কালিশুরী ইউনিয়নের সিংহেরাকাঠী গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সোহেল হাওলাদের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর বেশ কিছুদিন আমাদের কোনো সন্তানের মুখ না দেখায় আমরা পারিবারিকভাবে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। একপর্যায়ে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আমার কোল জুড়ে একসঙ্গে ৫টি সন্তান আসে। ফুটফুটে এই নবজাতকদের মধ্যে ৩ জন ছেলে আর ২ জন মেয়ে।”
তিনি নিজের পারিবারিক সংকট ও দুশ্চিন্তার কথা তুলে ধরে আরও বলেন, “এক সঙ্গে পাঁচ সন্তান জন্ম হওয়ায় প্রথমদিকে আমি ও আমার শ্বশুরবাড়ির পরিবার ভীষণ খুশি হলেও পরবর্তীতে সন্তানদের দৈনিক ভরণপোষণ, দুধ ও চিকিৎসার খরচ বহন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাতে থাকি। আমার স্বামী সোহেল হাওলাদার স্থানীয় বাহেরচর বাজারে একজন সাধারণ মুদী ব্যবসায়ী। তাঁর এই সামান্য ও সীমিত আয়ে আমাদের নিজেদের স্বাভাবিক সংসার চালানোই কষ্টকর। তাই সন্তান জন্মের ৪ মাস আগ থেকেই আমি আমার বাবার বাড়ী চাঁদকাঠী গ্রামে এসে আছি। কিন্তু আমার বাবা ফারুক হাওলাদারের আর্থিক অবস্থায়ও মোটেও ভাল না। তিনি একটি ইটভাটায় দিনমজুর শ্রমিক হিসেবে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে কাজ করেন। ফলে আমাদের পক্ষে এই ৫ সন্তানকে সঠিকভাবে লালন-পালন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
ঋণের বোঝার কথা উল্লেখ করে অসহায় এই মা আরও বলেন, “বাচ্চাদের বাঁচিয়ে রাখতে ও চিকিৎসার খরচ মেটাতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন এনজিও থেকে আমি বাধ্য হয়ে ২ লক্ষ টাকা লোন বা ঋণ নিয়েছি। বর্তমানে প্রতি মাসে ওই লোনের কিস্তি হিসেবেই আমাকে ১৭ হাজার টাকা করে পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা আমাদের জন্য এক প্রকার অসম্ভব। তাই আজ হাসিব আলম তালুকদারের মত সমাজের বিত্তশীল ও দানবীর ব্যক্তিরা যদি আমাদের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে আমি আমার ৫টি সন্তানকে সুস্থ ও সুন্দরভাবে লালন-পালন করে বাঁচিয়ে রাখতে পারব।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ৬ অক্টোবর বরিশাল হেমায়েত উদ্দীন ডায়াবেটিকস হাসপাতালে কোনো প্রকার সিজারিয়ান বা অস্ত্রোপচার ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে (নরমাল ডেলিভারি) লামিয়া একে একে লাবিবা, হাসান, হোসাইন, ওমামা ও মুহাসিন নামে এই ৫ সন্তানের জন্ম দেন। ওই সময় কোনো সিজার ছাড়াই এক সঙ্গে পাঁচ সন্তানের অলৌকিকভাবে জন্ম নেয়ার বিরল ঘটনাটি গোটা বরিশাল বিভাগজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতুহলের সৃষ্টি করেছিল।