ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

বাংলাদেশকে অশান্ত করতে ভারত নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে, রাজশাহীতে কর্নেল অলি


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৬ মে, ২০২৬ সময় : ৬:১৫ পিএম

সার্বভৌম বাংলাদেশকে নতুন করে অশান্ত ও অস্থিতিশীল করে তুলতে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ (বীর বিক্রম)। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই বিস্ফোরক ও কৌশলগত মন্তব্য করেন।

কর্নেল অলি আহমেদ অতীতের রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে এনে বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশকে অশান্ত করার ব্যাপারে ভারত এখন আবারও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনকালে কাদের সিদ্দিকীসহ আওয়ামী লীগের অসংখ্য বিতর্কিত নেতাকর্মী ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে শুরু করে ময়মনসিংহ পর্যন্ত দীর্ঘ বর্ডার এলাকাকে সম্পূর্ণ অস্থিতিশীল করে তুলেছিল। বর্ডারের সেই চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে এনে ঠিক করতে তৎকালীন সময়ে আমাদের অনেক বেশি কষ্ট পোহাতে হয়েছে। তবে তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ভালো লোক এবং ভদ্র লোক ছিলেন। উনি নিজে উদ্যোগী হয়ে এই কঠিন সমস্যার একটি যৌক্তিক সমাধান করেছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, বর্তমানে সেই ধরনের ভালো লোক বা কোনো ভদ্রলোক ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে নেই।’

দেশে সার্বিক গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বর্তমান জনদুর্ভোগ লাঘব এবং পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে অলি আহমেদ আরও বলেন, ‘বিদেশী ও ভারতীয় দালালদের নানামুখী অপতৎপরতার কারণে আমরা গত ১৯ বছর দেশের অভ্যন্তরে অনেক কষ্ট পেয়েছি, অনেক জুলুম সহ্য করেছি। সমাজে লুকিয়ে থাকা এই সমস্ত দেশদ্রোহী দালালদের অবিলম্বে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে চিহ্নিত করতে হবে। এদের হাত-পা ভেঙে দিয়ে সরাসরি আইনের হাতে অর্থাৎ পুলিশে সোপর্দ করতে হবে।’

ভারতীয় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে খুব সতর্কতার সাথে দেখতে হবে এ দেশে শুভেন্দুর কোনো গোপন ফলোয়ার বা অনুসারী আছে কি না। এই গরুটা ভারতের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অনবরত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক হুমকি দিচ্ছে যে—যুদ্ধ ঘোষণা করব, বাংলাদেশ দখল করে নেব! এটা কি তোমার বাপের দেশ যে তুমি চাইলেই এসে দখল করে নিবা? আর আমরা বাংলাদেশিরা যদি আজ পাল্টা বলি—আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়সহ ভারতের সেভেন সিস্টার্স এর সবগুলো রাজ্য আমরা দখল করে নিব, তখন তোমরা কী বলবা? আমরা তো শৃঙ্খল জাতি, তাই সেটা বলছি না। আমরা শুধু বলি আমাদেরকে আমাদের মতো শান্তিতে থাকতে দাও। তুমিও তোমার দেশের ভেতর শান্তিতে থাকো। তোমার দেশের কোনো অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে আমরা কোনোদিন হস্তক্ষেপ করব না, এটা সম্পূর্ণ তোমাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু তোমরা কেন প্রতিনিয়ত আমাদের স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নগ্ন হস্তক্ষেপ করে যাচ্ছ?’

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের কথা তুলে ধরে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন পুরোপুরি বিদেশী বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে। দেশে যে সমস্ত বড় বড় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আছে, তারাও চরম নিরাপত্তাহীনতায় নিজেদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে। তাহলে আমাদের শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের জন্য কোথায় যাবে? দেশে বড় ধরনের দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সাধারণ জনগণ চরম দুঃসহ জীবনযাপন করছে। প্রতিদিন পত্রিকা খুললেই দেখবেন দেশের কোথাও না কোথাও প্রতিনিয়ত হত্যাকাণ্ড ঘটছে। মানুষের মনে যখন অশান্তি হয় এবং মানুষ যখন বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত হয়, সে তখন আর ডান-বাম বা কোনো রাজনীতি দেখে না।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে খুব গভীরভাবে বুঝতে হবে, তিনি দেশের এই বিশাল বেকার সমস্যা কীভাবে সমাধান করবেন। পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারতকে কীভাবে রাজনৈতিকভাবে সামাল দেবেন। উনার নিজের দলের লোকজন দেশের আনাচে-কানাচে যে লাগামহীন চাঁদাবাজি করছে, মূলত তার কারণেই বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য হু হু করে বাড়ছে। এই সমস্ত চাঁদাবাজদের দ্রুত তালিকা করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। উনাকে দেশ নিয়ে চিন্তা করতে হবে। আমরা বিরোধী দলগুলো দেশের জন্য কোনো সমস্যা তৈরি করছি না। বরং গত ৫০ বছরে আমরা যে সমস্ত ভুলভ্রান্তি ও বৈষম্যগুলো দেশের সংবিধানে এবং প্রশাসনে দেখেছি, বর্তমান নতুন বাংলাদেশে সেগুলো দ্রুত সংস্কার করে ঠিক করার জন্য আপনাকে বিনীত অনুরোধ করছি।’

১১ দলীয় ঐক্য, রাজশাহী বিভাগ আয়োজিত এই ঐতিহাসিক ও জনাকীর্ণ মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমির ও জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।


এ সম্পর্কিত আরো খবর