কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি / : 56
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেছে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন। প্রতি সপ্তাহের শনিবার নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (১৬ মে) দুপুরে শহরের কিশলয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। বাসাবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে মশার বিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব। তিনি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “কুড়িগ্রামে এখনো বড় ধরনের ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব না থাকলেও বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। শুধু জেলা প্রশাসনের একার পক্ষে ডেঙ্গু মোকাবিলা সম্ভব নয়। সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। এজন্য বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, অব্যবহৃত পাত্র পরিষ্কার রাখা এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা জরুরি। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ মাহবুবে সোবহানী, জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সহকারী অধ্যাপক নাজমুন নাহার বিউটি, সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু, জেলা বিএনপির সদস্য ডা. রকিবুল হাসান বাঁধন এবং ছাত্রনেতা আমিমুল ইহসান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। প্রতিটি পরিবারকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
পরে অংশগ্রহণকারীরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। এ সময় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই আগাম সতর্কতা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি। সংশ্লিষ্টদের মতে, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।