বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার কুচপাড়া সীমান্ত এবং শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার সন্ধ্যাকুড়া মেডামবাড়ী সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় মদ পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবির টহল দল পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে এসব মদ জব্দ করতে সক্ষম হয়।
অভিযানে আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৩৯৩ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত মদের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সদস্যরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তপথে যেকোনো ধরনের অবৈধ পণ্য প্রবেশ রোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান রোধে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহজনক কোনো কার্যক্রম চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান কার্যক্রম চলে আসছে। বিশেষ করে ভারতীয় মদ, মাদক ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্য অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। এসব রোধে বিজিবি নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
স্থানীয়দের মতে, সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি বাড়ানোর ফলে চোরাচালান অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে সংঘবদ্ধ চক্র এখনও বিভিন্ন কৌশলে অবৈধ পণ্য পাচারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সচেতনতাও জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তাদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়।