নীলফামারীতে রেললাইনের ওপর গাছের ডাল ভেঙে পড়ে খুলনাগামী খুলনা মেইল (রকেট) এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সৈয়দপুর-চিলাহাটি রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার কার্যক্রম শেষ হলে বিকেলের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে।
রোববার (১৭ মে) সকাল ৮টার দিকে জেলার খয়রাতনগর রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর ওই রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয় এবং কিছু ট্রেনের যাত্রা আংশিক বাতিল করা হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী খুলনা মেইল এক্সপ্রেস নীলফামারী স্টেশনে যাত্রাবিরতির পর খয়রাতনগর এলাকায় পৌঁছালে রেললাইনের ওপর পড়ে থাকা গাছের ডালের সঙ্গে ইঞ্জিনের সংঘর্ষ হয়। এতে ইঞ্জিনের চাকা লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর সৈয়দপুর থেকে চিলাহাটি রুটে সব ধরনের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর ফলে যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তি দেখা দেয়। বিশেষ করে দূরপাল্লার যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
এ ঘটনার প্রভাব পড়ে খুলনাগামী আন্তঃনগর রূপসা এক্সপ্রেসেও। রেল কর্তৃপক্ষ ট্রেনটির চিলাহাটি, ডোমার ও নীলফামারী স্টেশনের যাত্রা বাতিল করে সৈয়দপুর থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে ওই স্টেশনগুলোর যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থার জন্য অপেক্ষা করতে হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পার্বতীপুর থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। রেলওয়ের প্রকৌশল ও কারিগরি বিভাগের কর্মীরা লাইনচ্যুত ইঞ্জিন উদ্ধার এবং ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ সচল করতে কাজ করছেন।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় সাময়িকভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে রেললাইন সচল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নীলফামারী রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন অফিসার মিঠুর রায় বলেন, পার্বতীপুর থেকে রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে। ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে দ্রুত উদ্ধার কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে বিকেলের মধ্যেই সৈয়দপুর-চিলাহাটি রুটে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। অনেকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে রেললাইনের পাশে ঝুঁকিপূর্ণ গাছপালা নিয়মিত পরিষ্কার না করার বিষয়টিকে দায়ী করেছেন। যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলপথের আশপাশে নিয়মিত নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।