রোববার (১৭ মে) সকাল থেকে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীরা গন্তব্যে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের বিকল্প পরিবহন না থাকায় অনেককেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ ও শ্রমিক মালিক নেতৃবৃন্দের ডাকে এ পরিবহন ধর্মঘট চলছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদ ও সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এর আগে শনিবার মৌলভীবাজারে হবিগঞ্জের একটি বাস আটকে শ্রমিকদের মারধর করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে ওই অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
তবে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের দাবি, ঘটনার সঠিক সমাধান না হওয়ায় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় রোববার সকাল থেকে সব ধরনের বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
ধর্মঘটের কারণে হবিগঞ্জ জেলার অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃজেলা যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সিলেট, মৌলভীবাজার ও ঢাকা রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
যাত্রীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। জরুরি কাজে বের হওয়া অনেকেই সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি। অনেকে অতিরিক্ত ভাড়ায় বিকল্প যানবাহনে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও ন্যায্যতার বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, প্রশাসনের আশ্বাসে আগের অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় নতুন করে কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
এদিকে পরিবহন ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের ভিড় ও বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। স্থানীয়রা দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হয়।