ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পারিবারিক বিরোধের জেরে দায়ের হওয়া জাহানারা বেগম হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। শুক্রবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নয়নপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি হলেন নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর মধ্যপাড়া এলাকার মৃত আবু শামার ছেলে মো. আব্দুল কুদ্দুস (৫৮)। তিনি মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, নিহত জাহানারা বেগম নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার ছোট বোনের সঙ্গে চাচাতো বোন রুমানা বেগমের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ আগে জাহানারার ছোট বোন বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন।
গত ১০ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ির সামনের সড়কে পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন জাহানারা বেগম। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে রুমানা বেগম ইট ছুড়ে মারলে সেটি জাহানারার বুকে আঘাত করে। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর নিহতের স্বামী বাদী হয়ে নাসিরনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এরই ধারাবাহিকতায় তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আব্দুল কুদ্দুসকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনাটির সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নাসিরনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনার বিস্তারিত উদঘাটন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।