ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

খোরাকির ধানে ভরসা: সারা বছরের খাদ্য নিয়ে ফিরছেন শ্রমিকরা


  • আপলোড সময় : রবিবার ১৭ মে, ২০২৬ সময় : ৬:১৩ পিএম

রেজাউল ক‌রিম ঝন্টু ,  সিরাজগঞ্জ প্রতি‌নি‌ধিঃ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থেকে খোরাকির ধান নিয়ে ট্রাকে ফিরছেন শ্রমিকেরা, যা তা‌দের সারা বছরের খাদ্যের নিরাপত্তা। তাড়াশে শে‌ষের প‌থে বোরো ধান কাটার মহোৎসব। মাঠের সোনালী ফসল কৃষকের গোলায় তোলার পর এবার মেহনতি শ্রমিকদের ঘরে ফেরার পালা। তীব্র রোদ আর মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অর্জিত পারিশ্রমিক হিসেবে পাওয়া ধানের ভাগ নিয়ে এখন নিজ নিজ গন্তব্যে ছুটছেন হাজারো কৃষিশ্রমিক। যেটা‌কে তারা বল‌ছে ‘খোরাকির ধান’ অর্থাৎ সারা বছর খাবার জন‌্য যে ধানটা ব‌্যবহার করা হয়।

র‌বিবার (১৭ মে) সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার বারুহাস আঞ্চলিক সড়কে চোখে পড়ল এমনই দৃশ্য। চলনবিলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ধান কাটা শেষ করে শত শত শ্রমিক ট্রাকে করে খোরাকির ধান নিয়ে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। চলন্ত ট্রাকের ওপর ধানের

বস্তা আর বস্তার ওপর বসে থাকা ক্লান্তিহীন শ্রমিকদের মুখে তখন ফুটে উঠেছে এক টুকরো স্বর্গীয় হাসি ও স্বস্তির ঝিলিক। বিভিন্ন মাঠে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিনরাত পরিশ্রম করেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এই দলবদ্ধ শ্রমিকেরা। দৈনিক নগদ মজুরির চেয়ে ধান কাটার বিনিময়ে ধানের ভাগ বা 'খোরাকি' পাওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। এসকল শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চলনবিলে এবার ধানের ফলন ভালো হওয়ায় তারা পারিশ্রমিকও বেশ ভালো পেয়েছেন। একেকজন শ্রমিক ১০ থেকে ১৫ মণ পর্যন্ত ধান পেয়েছেন। বাজারে চালের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে এই ধান তাদের পরিবারের আগামী কয়েক মাসের খাদ্য নিরাপত্তার এক বিরাট নিশ্চয়তা।

ট্রাকের ওপর বসে থাকা প্রবীণ শ্রমিক রহমত আলী হাসিমুখে বলেন, কয়ডা সপ্তাহ চলনবিলের মাঠে রোদে পুইড়া, পানিতে ভিজা ধান কাটছি। শরীর তো আর চলে না বাবা! কিন্তু এই যে ট্রাকে কইরা নিজের কামাই করা ধানের বস্তা লইয়া বাড়ি ফিরতাছি, এটা অ‌নেক বড় আনন্দ‌ের। বাড়িতে বউ-পোলাপান পথ চাইয়া আছে। এই ধান দিয়া সারা বছরের ভাতের চিন্তা দূর হইলো।

বারুহাস সড়কে দেখা যায়, ধানের বস্তায় ঠাসা প্রতিটি ট্রাক যেন এক একটি ভাসমান উৎসবের মঞ্চ। খাঁ খাঁ রোদের মাঝেও ক্লান্তি দূরে ঠেলে শ্রমিকেরা কেউ কেউ গান গাইছেন, কেউবা মেতে উঠেছেন চিরচেনা গ্রামীণ আড্ডায়। তাদের চোখে-মুখে এখন আর ধান কাটার সেই হাড়ভাঙা খাটুনির ছাপ নেই বরং সেখানে স্থান করে নিয়েছে বিজয়ের আনন্দ। ট্রাকগুলো যখন বারুহাশ বাজার পার হয়ে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন সড়কের দুই পাশের পথচারীরাও শ্রমিকদের এই আনন্দঘন যাত্রা উপভোগ করছিলেন। 

স্থানীয় সচেতন মহল ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, চলনবিল অঞ্চলের বোরো মৌসুম কেবল স্থানীয় কৃষকদের ভাগ্যবদল করে না বরং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাজারো ভূমিহীন কৃষিশ্রমিকের সারা বছরের খাদ্যের সংস্থান করে। ট্রাকে করে এই খোরাকির ধান নিয়ে বাড়ি ফেরার দৃশ্যটি আসলে গ্রামীণ বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা ও খাদ্য সুরক্ষার এক জীবন্ত প্রতীক।

আকাশজমিন / আরআর 



এ সম্পর্কিত আরো খবর