ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান

চূড়ান্ত হলো সরকারি কর্মচারীদের নবম পে-স্কেল


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৮ মে, ২০২৬ সময় : ৩:২৪ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে দেশের লাখ লাখ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল আকাক্ষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সব ধরনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে সরকার। আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এ খাতের জন্য সরকারিভাবে মোট ৩৭ হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকেই দেশের সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বর্ধিত বেতনের প্রাথমিক ৫০ শতাংশ আর্থিক সুবিধা পেতে শুরু করবেন। তবে পুরো নবম পে-স্কেল একবারে কার্যকর না করে, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মোট তিন ধাপে এটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সরকারি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জমা দেওয়া নবম পে-কমিশনের মূল সুপারিশগুলো হুবহু বা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। কমিশনের দেওয়া বিভিন্ন সুপারিশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে বর্তমান সরকার কর্তৃক গঠিত উচ্চপদস্থ সচিব কমিটি বেশ কিছু প্রস্তাব কাটছাঁট করেছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের আনুষঙ্গিক ভাতা বৃদ্ধির যে বড় প্রস্তাব ছিল, তার একটি বড় অংশই বর্তমানে বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই তিন ধাপের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে আগামী জুলাই মাস থেকে নতুন বেসিক বা মূল বেতনের ঠিক অর্ধেক কার্যকর হবে, এর পরবর্তী অর্থবছরে বাকি অর্ধেক বেসিক কার্যকর করা হবে এবং সর্বশেষ ২০export-২০২৯ অর্থবছরে বিভিন্ন ধরনের সরকারি ভাতা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত পরিকল্পনা রয়েছে।

পে-কমিশনের রিপোর্ট প্রণয়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কমিশনের মূল সুপারিশ অনুযায়ী পুরো বেসিক একবারে বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা ১০ শতাংশ হারে যে মহার্ঘভাতা পাচ্ছেন, সেটি নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। যার ফলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের পরিমাণ কমে বর্তমানে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অন্যদিকে, সচিব কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে পে-কমিশনের সামগ্রিক ব্যয় প্রাক্কলনও অনেক কমানো হয়েছে। সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন যেখানে পুরো পে-স্কেল বাস্তবায়নে এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিল, সেখানে বর্তমান কমিটি বিভিন্ন খাত পর্যালোচনা করে তা কমিয়ে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে এনেছে। তবে সচিব, সমমর্যাদার কর্মকর্তা ও উচ্চপদস্থদের কুক, মালি ও গাড়ি বাবদ বিদ্যমান ভাতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়নি।

প্রসঙ্গগত উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর দেশে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এই নতুন পে-কমিশন গঠন করেছিল। পরে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি কমিশন তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেয়। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বনিম্ন স্তরের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে একলাফে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ স্তরের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন স্তরে বেতন বৃদ্ধির হার দাঁড়াবে ১৪২ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ স্তরে বেতন বৃদ্ধির হার হবে ১০৫ দশমিক ১২ শতাংশ। কমিশন দেশজুড়ে মোট ২০টি গ্রেডভিত্তিক নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছে। এ ছাড়া মূল প্রতিবেদনে প্রতিবন্ধী সন্তান থাকা কর্মচারীদের জন্য মাসিক দুই হাজার টাকা বিশেষ ভাতা, ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার টাকা এবং বৈশাখী উৎসব ভাতা ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার জোর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ পেনশনভোগীদের জমানো পেনশনও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর