বাকি দুই ফরম্যাট থেকে অবসর নিলেও টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত খেলে যাচ্ছেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম। লাল বলের এই ক্রিকেটটাই যে তার সবচেয়ে প্রিয়, তা তিনি আবারও প্রমাণ করলেন। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে দাঁড়িয়েও দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। সিরিজের প্রথম টেস্টের পর দ্বিতীয় টেস্টেও তার ব্যাটে দেখা মিললো বড় রানের। সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে অনবদ্য এক তিন অঙ্কের দেখা পেয়েছেন তিনি।
১৭৮ বল খেলে ক্যারিয়ারের স্মরণীয় এই সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন মুশফিকুর রহিম। দৃষ্টিনন্দন এই ইনিংসটি খেলার পথে তিনি হাঁকিয়েছেন ৯টি চার ও একটি ছক্কা। এটি টেস্ট ক্রিকেটে মুশফিকের ১৪তম সেঞ্চুরি। আর এই শতকের মধ্য দিয়ে লাল বলের ক্রিকেটে এখন বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে এককভাবে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক হলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। মুশফিকের এই রেকর্ড সেঞ্চুরির ওপর ভর করে বড় সংগ্রহের পথে রয়েছে বাংলাদেশ। ৮৫ ওভার শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩২৫ রান। সবমিলিয়ে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে টাইগারদের লিড এখন ৩৭১ রানের বিশাল ব্যবধানে।
এর আগে ১৫৬ রানের লিড হাতে নিয়ে আজ সোমবার ম্যাচের তৃতীয় দিন খেলতে নামে বাংলাদেশ। আগের দিন মুমিনুল হক মাঠ ছাড়তেই আম্পায়াররা দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেছিলেন। ফলে আজ ১৩ রানে অপরাজিত থাকা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ক্রিজে নতুন দিন শুরু করতে নামেন মুশফিকুর রহিম। তবে দিনের শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দিনের পঞ্চম ওভারেই বাংলাদেশ তাদের প্রথম উইকেট হারায়। শান্ত ৪৬ বলে ১৫ রান করে খুররম শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নিয়েও শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেননি অধিনায়ক।
শান্তর বিদায়ের পর ক্রিজে নামেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাস। ৪১তম ওভারের তৃতীয় বলে লিটনের নেওয়া এক সিঙ্গেলে বাংলাদেশের লিড ২০০ রান পার হয়। এরপর দুজনে মিলে ৮৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দিনের প্রথম সেশন পার করেন। লাঞ্চের বিরতিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের লিড ছিল ২৪৯ রানের।
লাঞ্চ বিরতি থেকে ফিরে চতুর্থ বলেই লিটন দাস তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ২০তম হাফ সেঞ্চুরি। ৫৪ ম্যাচের টেস্ট ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম এক ম্যাচে দুই ইনিংস মিলে সর্বোচ্চ রান করার কীর্তি গড়লেন এই ডানহাতি ব্যাটার। এর আগে এক ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৯৩ রান করেছিলেন লিটন, ২০২২ সালের মে মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। সেবার প্রথম ইনিংসে ক্যারিয়ার সেরা ১৪১ রান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫২ রান করেছিলেন। লিটন এই টেস্টে ১৯৪ রান করার পর মুশফিকুর রহিম ১০৩ বলে ৩টি চার ও ১টি ছয়ের সাহায্যে ক্যারিয়ারের ৩০তম ফিফটি পূর্ণ করেন।
৬ বলে ৪৮ রান করে প্রথম সেশন শেষ করেছিলেন লিটন। দ্বিতীয় সেশনে নেমে নিজের খেলা প্রথম বলেই পঞ্চাশের কোটা ছোঁন তিনি। মিরপুর টেস্টে ৩৩ ও ১১ রান করা এই ডানহাতি ব্যাটার সিলেটে এসে দুটি ইনিংসেই পঞ্চাশের ঘরে পৌঁছালেন। মূলত প্রথম ইনিংসে তার লড়াকু ব্যাটে ভর করেই বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছিল। প্রথম ইনিংসে তার একার লড়াইয়ে বাংলাদেশ ২৭৮ রান সংগ্রহ করে, যেখানে তিনি ১৫৯ বলে ১২৬ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেছিলেন। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে আজ ব্যক্তিগত ৬৯ রানে থেমেছেন লিটন। লিটনের বিদায়ের পর মেহেদি হাসান মিরাজ উইকেটে থিতু হয়েও নিজের ইনিংসটি বড় করতে পারেননি। ৩৯ বল খেলে ১৯ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এরপর মুশফিক এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যান।