দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানীয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর নিয়োগ করা দালালদের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা প্রতিনিয়ত হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে এবার কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়ে চেম্বার থেকে বের হওয়ার পরই একদল নারী ও পুরুষ দালাল রোগীদের ঘিরে ধরে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের হাত থেকে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র বা প্রেসক্রিপশন নিয়ে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। ফলে রোগীরা বিভ্রান্তি ও মানসিক চাপে পড়ছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই হাসপাতাল এলাকায় দালাল চক্র সক্রিয় থাকলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান বা দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ না থাকায় দালালদের দৌরাত্ম্য আরও বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
গতকাল বাজুয়া এস এন কলেজে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খানের নজরে আনেন। এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো দালাল সিন্ডিকেট থাকবে না। সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি হয় এমন কোনো কাজ মেনে নেওয়া হবে না। অতিসত্বর এ ব্যাপারে অভিযান চালানো হবে। হাসপাতাল থাকতে হবে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত।”
সংসদ সদস্য আরও বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের নিরাপত্তা ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা চক্র যদি রোগীদের জিম্মি করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে সংসদ সদস্যের এমন কঠোর অবস্থানের পর সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগী রোগীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনা করা হলে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, হাসপাতালে দালালদের কারণে অনেক সময় চিকিৎসা ব্যয় অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেড়ে যায়। বাধ্য হয়ে অনেক রোগী নির্দিষ্ট কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে যান। এতে সরকারি হাসপাতালের সেবার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়রা দ্রুত দালালবিরোধী অভিযান শুরু এবং হাসপাতাল এলাকাকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, সংসদ সদস্যের নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।