পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। চলতি সিরিজেই ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা। এবার সিলেট টেস্টে জয় পেলে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ইতিহাসে আরও একটি বড় অর্জন যোগ হবে বাংলাদেশের নামের পাশে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলমান ম্যাচের চতুর্থ দিনের খেলা শেষে জয়ের খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। পঞ্চম ও শেষ দিনে বাংলাদেশের প্রয়োজন মাত্র ৩ উইকেট। অন্যদিকে পাকিস্তানের জয়ের জন্য দরকার আরও ১২১ রান। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে শেষ দিনের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে।
চতুর্থ দিনের খেলা শেষে পাকিস্তানের হয়ে ৭১ রানে অপরাজিত আছেন দলটির সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ান। তার সঙ্গী হিসেবে রয়েছেন টেলএন্ডার সাজিদ খান, খুররম শেহজাদ ও মোহাম্মদ আব্বাস। তবে এই তিন বোলারকে নিয়ে দীর্ঘ সময় উইকেটে টিকে থাকা পাকিস্তানের জন্য বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের বোলাররা পুরো ম্যাচজুড়ে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। বিশেষ করে স্পিন বিভাগ প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের চাপে রেখেছে নিয়মিত। শেষ দিনে তাইজুল ইসলাম ও সঙ্গীদের সামনে সুযোগ থাকবে দ্রুত বাকি তিন উইকেট তুলে নেওয়ার। সিলেটের উইকেটও ধীরে ধীরে স্পিনারদের সহায়তা করছে, যা বাংলাদেশের জন্য বাড়তি সুবিধা হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য পরিস্থিতি বেশ কঠিন। কারণ হাতে মাত্র তিন উইকেট রেখে ১২১ রান তাড়া করা সহজ কাজ নয়। তাছাড়া পুরো একটি দিন বোলারদের নিয়ে টিকে থাকাও প্রায় অসম্ভবের মতো চ্যালেঞ্জ। তাই শেষ দিনের শুরু থেকেই ম্যাচে আধিপত্য ধরে রাখতে চাইবে বাংলাদেশ।
ক্রিকেটভক্তদের মধ্যেও এই ম্যাচ ঘিরে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উন্মাদনা। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয় বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে নিজেদের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সংগ্রাম করেছে বাংলাদেশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলের ধারাবাহিক উন্নতি নতুন আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে টাইগারদের মধ্যে।
বিশেষ করে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স এখন অনেক বেশি পরিণত। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই দলটি ধারাবাহিক উন্নতির প্রমাণ দিচ্ছে। সিলেট টেস্টেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা দেখিয়েছেন দারুণ দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাস।
এখন সবকিছু নির্ভর করছে শেষ দিনের প্রথম সেশনের ওপর। যদি দ্রুত উইকেট তুলে নিতে পারে বাংলাদেশ, তাহলে খুব সহজেই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করতে পারবে স্বাগতিকরা। আর সেই জয় হলে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।