বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল পৌরশহরে বিদ্যুতের সীমাহীন লোডশেডিং এবং তীব্র লো-ভোল্টেজের কারণে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের এমন নাজুক পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাবে পৌরসভা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন তীব্র পানি সংকট শুরু হয়েছে। পানির তীব্র অভাবে সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে হাসপাতালের রোগী এবং কোয়ার্টারের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরশহরের ১,৪০০ গ্রাহকের পানির চাহিদা মেটাতে দুটি বড় মোটর দিয়ে প্রতিদিন অন্তত ১০ ঘণ্টা পানি সরবরাহ করতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে ১১টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এই পানি সরবরাহ সচল রাখার কথা। কিন্তু বর্তমানে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লো-ভোল্টেজের কারণে মোটরগুলো চালানোই যাচ্ছে না। ফলে পানি সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটায় সাধারণ গ্রাহকরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
হাসপাতালের বেহাল দশা: বিদ্যুৎ সংকটের সরাসরি ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাউফল ৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালেও। হাসপাতাল সূত্র জানায়, তীব্র বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে গত ৫ দিন ধরে হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ফলে ভর্তি থাকা রোগী, তাদের স্বজন এবং হাসপাতাল কোয়ার্টারে বসবাসরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পানির অভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে বাউফল হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল রউফ বলেন, “সংকট মোকাবিলায় আলাদা একটি মোটর সংযোগ দিয়ে হাসপাতালের নতুন ভবনের ট্যাংকিতে পানি তোলার আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে তাও চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। মূলত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে একাধারে ২-৩ ঘণ্টাও মোটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না, যার ফলে সংকট কাটছে না।”
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য: পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রভাষক মাসুদুর রহমান নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পানির সমস্যার পাশাপাশি লো-ভোল্টেজের কারণে গরমে ফ্যানের গতি খুব কম থাকে। ভোল্টেজ না থাকায় এসি ও ফ্রিজও ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না। গরমে আর পানির কষ্টে আমরা দিশেহারা।”
পটুয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বাউফল জোনাল অফিসের ডিজিএম মজিবুর রহমান এই বিদ্যুৎ সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, “বাউফলে আমাদের মোট ১ লাখ ২১ হাজার গ্রাহক রয়েছে। এখানে চাহিদা অনুযায়ী দৈনিক ২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হলেও আমরা জাতীয় গ্রিড থেকে ৫-৬ মেগাওয়াট কম পাচ্ছি। বর্তমানে গোসিংগা ও কালিশুরি—এই দুটি সাবস্টেশনের মাধ্যমে কোনোমতে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখা হচ্ছে। তবে আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মিলঘর এলাকায় নতুন একটি সাবস্টেশন নির্মাণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সেটি সম্পন্ন হলে এলাকায় আর এই লো-ভোল্টেজ সমস্যা থাকবে না।”
বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌরসভার প্রশাসক সালেহ আহমেদ বলেন, “বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ ও পানি সংকটের বিষয়টি নিয়ে আমি পল্লী বিদ্যুতের বাউফল জোনাল অফিসের ডিজিএমের সঙ্গে কথা বলেছি। মূলত কারিগরি ত্রুটি এবং চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ার কারণেই এমনটা হচ্ছে। সংকট দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
আকাশজমিন / আরআর