হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম মাধবপুর-হরষপুর সড়কের জরুরি সংস্কারকাজ শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও বেহাল পড়ে থাকা এই সড়কটির মেরামতকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। এর ফলে সাধারণ পথচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং জরুরি রোগীবাহী যানবাহনের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল।
স্থানীয় ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধর্মঘর, চৌমুহনী, বহরা ও এর আশপাশের বিশাল এলাকার লাখো মানুষের জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এই সড়কটি। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে সড়কের গর্তগুলোতে পানি জমে ডোবায় পরিণত হতো, যা ছোটখাটো দুর্ঘটনাকে নিত্যদিনের বিষয়ে পরিণত করেছিল। রাস্তা এতটাই ভাঙা ছিল যে, অনেক সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক এবং মোটরসাইকেল চলাচলও প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।
এই চরম জনদুর্ভোগের পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং জনপ্রতিনিধিদের নজরে আনেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল জনস্বার্থে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন।
মাধবপুর উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন্নবী সংস্কারকাজের অগ্রগতি নিয়ে জানান, সংসদ সদস্যের বিশেষ নির্দেশনার পর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃপক্ষ আপদকালীন ও জরুরি এই সংস্কারকাজ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও বড় গর্ত হওয়া কয়েকটি স্থানে মাটি ভরাট এবং ইটের খোয়া (রাবিশ) ফেলে রোলার দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সাময়িকভাবে হলেও স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
ধর্মঘর এলাকার বাসিন্দা রফিক মিয়া নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা খুব কষ্টে চলাচল করছি। বিশেষ করে কোনো মুমূর্ষু রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে হলে ঝাঁকুনিতে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যেত। এখন অন্তত সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় আমরা কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি।” একই অনুভূতি জানিয়ে চৌমুহনী এলাকার সালমা বেগম বলেন, “রাস্তা খারাপ থাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের শেষ ছিল না। বৃষ্টির সময় নোংরা পানির জন্য রাস্তায় হাঁটাই কঠিন হতো। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
চৌমুহনীর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী হামিদুর রহমান জানান, খারাপ সড়কের কারণে এলাকায় পরিবহন ব্যয় দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছিল, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছিল স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর। এখন সংস্কার শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর জোর দাবি ও প্রত্যাশা— এই জরুরি ও সাময়িক সংস্কারের পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির একটি পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হোক।
মাধবপুর-চুনারুঘাট আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল সড়কটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “মাধবপুর থেকে হরষপুর পর্যন্ত এই সড়কটি আগে সম্পূর্ণ মাটির রাস্তা ছিল। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর তৎকালীন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) মন্ত্রী ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের মাধ্যমে এই কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ এবং চৌমুহনীর সোনাই নদীর ওপর গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এটি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক লাইফলাইন। ভবিষ্যতে সড়কটি আরও প্রশস্ত ও টেকসই করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।”
আকাশজমিন / আরআর