ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

শিশু আয়াত হত্যা মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৫ মে, ২০২৬ সময় : ১১:০৫ এএম

চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত হত্যা মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ১৭ জুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। সাড়ে তিন বছর আগে সংঘটিত এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছে। ষষ্ঠ অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালতে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে গত শনিবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন হয় এবং বিজ্ঞ বিচারক রায়ের এই তারিখ নির্ধারণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন মামলার অগ্রগতির বিষয়ে নিশ্চিত করে জানান, এই দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত মোট ৩৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করেছেন। সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আগামী ১৭ জুন রায়ের দিন ঠিক করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, অপরাধের যে নৃশংসতা তদন্তে উঠে এসেছে, তাতে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।

পুলিশ ও আদালত সূত্র থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার শিশু কন্যা আলিনা ইসলাম আয়াত হঠাৎ নিখোঁজ হয়। এই ঘটনায় নিখোঁজের দিনই ইপিজেড থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরবর্তীতে পরিবারের আকুল আবেদনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। অত্যন্ত নিপুণ তদন্তের পর পিবিআই জানতে পারে যে, মুক্তিপণ আদায়ের অসৎ উদ্দেশ্যে শিশু আয়াতকে তাদের বাসার ভাড়াটে মো. আবির অপহরণ করেছিল। তবে পরবর্তীতে পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কায় সে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যা করে। অপরাধের প্রমাণ লুকাতে আয়াতের মরদেহ খণ্ড-বিখণ্ড করে সাগরপাড় ও খালের পাশে ফেলে দেওয়া হয়।

২০২২ সালের ২৫ নভেম্বর পুলিশ মূল অভিযুক্ত মো. আবিরকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সে নিজের মুখে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। এতে মো. আবির এবং তার ১৭ বছর বয়সী এক বন্ধুকে আসামি করা হয়। প্রধান আসামি আবির বর্তমানে কারাগারে থেকে বিচার ফেস করছেন, অন্যদিকে অপর আসামি কিশোর হওয়ায় তার বিচার প্রক্রিয়া পৃথকভাবে শিশু আদালতে চলমান রয়েছে।

সন্তান হারানোর সাড়ে তিন বছর পরও শোকগ্রস্ত আয়াতের মা সাহেদা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এক মুহূর্তের জন্যও মেয়ের ফুটফুটে মুখটি ভুলতে পারিনি। আমরা হত্যাকারীর এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই যা দেখে আর কেউ যেন কোনো শিশুর জীবন কেড়ে নেওয়ার সাহস না পায়।’ মামলার বাদী ও আয়াতের বাবা সোহেল রানা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার নিষ্পাপ মেয়েকে যেভাবে টুকরো টুকরো করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, আমি সেই হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।’


এ সম্পর্কিত আরো খবর