ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ

৬০০ কোটি ডলার পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনা


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৫ মে, ২০২৬ সময় : ৩:১০ পিএম

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান ঋণ কর্মসূচি থেকে সরে এসে নতুন একটি কর্মসূচিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। নতুন কর্মসূচির আওতায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি ডলার পর্যন্ত নতুন ঋণ সহায়তা পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান আইএমএফ কর্মসূচির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে অত্যন্ত গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে বলে আজ সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আইএমএফের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ব্যাংক-ফান্ড বার্ষিক সভায় হওয়া ফলপ্রসূ আলোচনার কথা স্মরণ করেন। ওই বৈঠকের পর সরকার অভ্যন্তরীণভাবে সামগ্রিক বিষয়টি পর্যালোচনা করেছে। বৈঠকে মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকার দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ও প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে আইএমএফের চলমান কর্মসূচিটি ভিন্ন অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রেক্ষাপটে গ্রহণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উদ্ভূত দেশীয় বাস্তব পরিস্থিতি, রাজনৈতিক অর্থনীতির পরিবর্তন এবং বৈশ্বিক নানামুখী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে পূর্বনির্ধারিত কিছু কঠোর সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানাবিধ চ্যালেঞ্জ ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, সরকার কোনোভাবেই অর্থনৈতিক সংস্কারের পথ থেকে সরে আসতে চায় না; বরং সরকার অত্যন্ত বাস্তবসম্মত, ধাপে ধাপে এবং বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে আগ্রহী। এই পরিপ্রেক্ষিতে নবনির্বাচিত সরকারের অধীনে তিন বছর মেয়াদি একটি সম্পূর্ণ নতুন আইএমএফ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে অগ্রাধিকারভিত্তিক এবং সহজে বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কার এজেন্ডাগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বৈঠকে আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্ক বাংলাদেশের নতুন সংস্কার উদ্যোগ এবং একটি নতুন কর্মসূচি গ্রহণের এই বিশেষ প্রচেষ্টাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। তিনি বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে আইএমএফের গঠনমূলক ও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একই সাথে উভয় পক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন এই ঋণ কর্মসূচির রূপরেখা প্রণয়নের কাজ শুরু করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নতুন এই অর্থনৈতিক কর্মসূচি চূড়ান্ত করার উদ্দেশ্যে আগামী জুলাই বা আগস্ট মাসে আইএমএফের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ঢাকা সফর করতে পারে। সেই সময় ঋণের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, অর্থ ছাড়ের সময়সীমা এবং এর সাথে যুক্ত শর্তাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলারের একটি ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি করে মোট ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত মোট পাঁচ কিস্তিতে আইএমএফের কাছ থেকে ৩৬৪ কোটি ডলার ঋণ হিসেবে পেয়েছে এবং বর্তমান তহবিল থেকে আরও প্রায় ১৮৬ কোটি ডলার পাওয়া বাকি রয়েছে। তবে দেশীয় রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, বাজারভিত্তিক বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাতের জরুরি সংস্কারে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরেই তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল।


বিশেষ করে সরকার ও আইএমএফের মধ্যে নীতিগত মতপার্থক্যের প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল দেশজুড়ে অভিন্ন ভ্যাট হার চালু করা, বিভিন্ন খাতের কর অব্যাহতি সুবিধা কমিয়ে আনা, বাজারভিত্তিক মুদ্রা বিনিময় হার নির্ধারণ, বিদ্যুৎ ও সার খাতে দেওয়া রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি ক্রমান্বয়ে হ্রাস করা, ব্যাংকিং খাতের সার্বিক সংস্কার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআর পুনর্গঠন করা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার আপাতত এই ধরনের কঠোর সংস্কার কার্যক্রমে সরাসরি যেতে আগ্রহী নয়। তবে কর্মকর্তাদের মতে, বাংলাদেশের জন্য একটি সক্রিয় আইএমএফ কর্মসূচি সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই বৈশ্বিক সংস্থার ঋণ কর্মসূচি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এবং বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি শক্তিশালী এবং নির্ভরযোগ্য সিল অব অ্যাপ্রুভাল বা গ্রহণযোগ্যতার স্বীকৃতি হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবি, এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক বা এআইআইবি এবং জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা বা জাইকার মতো বড় বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে জরুরি বাজেট সহায়তা এবং অন্যান্য আর্থিক ঋণ পাওয়া অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। সরকার জোরালো আশা করছে যে, নতুন কর্মসূচির অগ্রগতি ইতিবাচক হলে আইএমএফ বাংলাদেশকে একটি কমফোর্ট লেটার বা স্বস্তিপত্র প্রদান করবে, যার ফলে অন্যান্য বহুপাক্ষিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত ও সহজ শর্তে বাজেট সহায়তা সংগ্রহ করা বাংলাদেশের জন্য আরও সহজ হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর