সাতক্ষীরায় তিনটি হত্যা মামলায় কারাবন্দি থাকা জেলা জজকোর্টের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল লতিফ (আব্দুল লতিফ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। সোমবার (২৫ মে ২০২৬) দিবাগত রাত ৪টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে জেলা কারাগারের ভেতরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে দ্রুত তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
সাতক্ষীরা জেলা কারাগারের জেলার দুলাল কর্মকার জানান, বন্দি অবস্থায় হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আব্দুর রহমান বলেন, রাত ৩টা ৩৫ মিনিটে বুকে ব্যথা নিয়ে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। এরপর রাত ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত আব্দুল লতিফ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামার বায়সা গ্রামের মৃত মুনসুর সরদারের ছেলে। তিনি সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক নেতা ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক দলের জেলা পর্যায়ের উপদেষ্টা ও আইনজীবী সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন।
স্থানীয় আইনজীবী মহলে তিনি একসময় পরিচিত নাম হলেও তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ ছিল বলে জানা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে তিনি দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি ওঠে। তবে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। পরে তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর খুলনা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি একাধিক হত্যা মামলায় কারাগারে ছিলেন।
তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সাতক্ষীরা আইনজীবী অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হবে এবং পরে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।