ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

মার্কিন চুক্তি: সবাই জানত, শুধু ড. ইউনূসই জানতেন না!


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৭ মে, ২০২৬ সময় : ২:৩৩ এএম

রফিকুল ইসলাম রাজু 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাব্য স্পর্শকাতর বাণিজ্য চুক্তি এবং জটিল কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র তোলপাড় ও নানামুখী আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে বিভিন্ন সাবেক উপদেষ্টা এবং শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের একের পর এক বিস্ফোরক বক্তব্য এখন জাতীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও গভীর রহস্যের জন্ম দিয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই অবাক হয়ে বলছেন, ওয়াশিংটনের সাথে এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত মার্কিন চুক্তির আদ্যোপান্ত ও পর্দার আড়ালের সব খবর সরকারের ভেতরে-বাইরে সবাই জানত, কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে খোদ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসই হয়তো এর অনেক কিছু জানতেন না বা তাকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই ভেতরের খবর প্রকাশ্যে আসতেই চারদিকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

সাবেক উপদেষ্টাদের বিভিন্ন দাবিতে দেখা গেছে, কেউ বলছেন এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ও স্পর্শকাতর সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল সময়ে তারা বিন্দুমাত্র অবহিত ছিলেন না; আবার কেউ দাবি করছেন, চুক্তির মধ্যে থাকা বেশ কিছু কঠিন ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী শর্তের তীব্র বিরোধিতা করে তারা একদম শেষ দিন পর্যন্ত শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। এর ফলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে এটি অত্যন্ত স্পষ্ট ও দিবালোকের মতো পরিষ্কার হয়েছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের খোদ ভেতরের উচ্চপর্যায়েই এই বিশেষ মার্কিন ইস্যু নিয়ে চরম মতপার্থক্য, রেষারেষি ও সমন্বয়হীনতা বিদ্যমান ছিল।

এই নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত সাখাওয়াত হোসেন অত্যন্ত খোলাখুলি ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী ও তথাকথিত ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বা রান্নাঘর মন্ত্রিসভায় তাকে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে রাখা হয়নি। এর ফলে রাষ্ট্রের অনেক বড় বড় এবং সুদূরপ্রসারী কৌশলগত সিদ্ধান্তই কেবল একটি নির্দিষ্ট ও অত্যন্ত সীমিত পরিসরে নেওয়া হয়েছে, যা মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরাও টের পাননি।

সাখাওয়াত হোসেনের এই গুরুতর অভিযোগের পর একই ধরনের সমান্তরাল ও প্রায় সমপর্যায়ের অভিযোগ গণমাধ্যমের সামনে সরাসরি তুলে ধরেছেন আরেক সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতারও। তাঁর বক্তব্য থেকেও এটি স্পষ্ট যে সরকারের সব সদস্য এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। অন্যদিকে, সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সাম্প্রতিক বক্তব্যে এক নতুন এবং আরও বেশি চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। তাঁর কূটনৈতিক ব্যাখ্যায় পরিষ্কারভাবে প্রকাশ পেয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোর ক্ষেত্রে মূল মন্ত্রিপরিষদের বা সাধারণ উপদেষ্টাদের কাঠামোর বাইরেও সম্পূর্ণ আলাদা এবং এক অদৃশ্য পরামর্শক গোষ্ঠীর অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা বা সরাসরি হস্তক্ষেপ ছিল।

এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যে বিষয়টি আরও বেশি স্পষ্ট এবং জনসমক্ষে প্রমাণিত হয়েছে যে, আমেরিকার সাথে এই বাণিজ্য বা কূটনৈতিক চুক্তি নিয়ে স্বয়ং সরকারের অভ্যন্তরেও কোনো ধরনের পূর্ণ স্বচ্ছতা বা জবাবদিহিতা বজায় রাখা হয়নি। সাবেক উপদেষ্টাদের একের পর এক এমন চাঞ্চল্যকর এবং বিস্ফোরক বক্তব্য বাংলাদেশের সচেতন নাগরিকদের মনে সম্পূর্ণ নতুন এবং অত্যন্ত জটিল কিছু মৌলিক প্রশ্ন তৈরি করেছে।

দেশের মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন—প্রকৃতপক্ষে এই রাষ্ট্র পরিচালনায় এবং মার্কিন চুক্তির মতো স্পর্শকাতর জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের আসল কেন্দ্রটি আসলে কোথায় ছিল? কারা ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সেই সিদ্ধান্তের পেছনে থাকা অদৃশ্য ক্ষমতার আসল নিয়ন্ত্রক বা মাস্টারমাইন্ড? একটি স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি নির্ধারণে নির্বাচিত বা দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাদের পাশ কাটিয়ে কীভাবে অন্য কোনো অদৃশ্য গোষ্ঠী কলকাঠি নাড়তে পারে, তা নিয়ে এখন সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, মার্কিন চুক্তিকে কেন্দ্র করে অন্তর্বর্তী সরকারের এই অভ্যন্তরীণ ফাটল ও সমন্বয়হীনতার চিত্রটি দেশের সার্বভৌমত্ব এবং কূটনৈতিক দরকষাকষির সক্ষমতাকেও আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞজনেরা।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর