বিগত দুই সরকার লুটপাটের উদ্দেশ্যে বিদেশি দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহ করেনি বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে মনোহরদী উপজেলা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় অসহায় ও দুস্থ জনগোষ্ঠীর মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মূলত অর্থনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে টিকা সংগ্রহে উদাসীন ছিল। তিনি দাবি করেন, বিদেশি দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় টিকা সময়মতো দেশে আনা হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রাইভেট কোটায় নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে টিকা কেনার প্রতি আগ্রহ থাকলেও সেখানে কাঙ্ক্ষিত আর্থিক সুবিধা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত দেশের জন্য পর্যাপ্ত টিকা সংগ্রহ করা হয়নি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই অবহেলার কারণে দেশে সম্প্রতি হামের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এতে অনেক শিশুর মৃত্যু এবং অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। সময়মতো টিকা সংগ্রহ করা হলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব ছিল।”
তবে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জরুরি ভিত্তিতে টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করেছে এবং দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে হামের প্রকোপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হামের পরিস্থিতি আরও উন্নত হবে এবং সংক্রমণ আরও কমে আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি জানান।
সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আধুনিক ও শক্তিশালী করার জন্য সরকারের একটি বড় বাজেট রয়েছে। আগামী দিনে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. এ মুহাইমিন আল জিহান। উপস্থিত ছিলেন মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর বাদশা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজিব মিয়া এবং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলনসহ স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহলে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, যা আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হতে পারে।