সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 76
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় কোরবানির পশুর চামড়ার বাজারে ভয়াবহ মূল্যপতন দেখা দিয়েছে। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় অনেক কোরবানিদাতা ও মৌসুমি ব্যবসায়ী চরম হতাশায় পড়েছেন। কোথাও কোথাও চামড়া কেনার জন্য ক্রেতাও পাওয়া যায়নি। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে চামড়া ফেলে রেখে যাচ্ছেন, আবার কেউ স্থানীয় মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে দান করে দিচ্ছেন।
কোরবানির পর থেকেই উপজেলার সদরসহ বিভিন্ন গ্রামে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ শুরু করলেও তাদের সংখ্যা ছিল খুবই কম। অনেক এলাকায় কোনো ক্রেতাই না যাওয়ায় কোরবানিদাতারা চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েন। পরে অনেকে তাড়াশ উপজেলা সদরে চামড়া বিক্রির জন্য নিয়ে এলেও সেখানেও আশানুরূপ দাম পাননি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকার মফস্বল এলাকার জন্য লবণযুক্ত চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করলেও কাঁচা চামড়ার দাম স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। এ বছর একটি বড় গরুর চামড়া সর্বোচ্চ ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে ছাগলের চামড়ার প্রায় কোনো মূল্যই পাওয়া যায়নি। অনেক ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ টাকার বেশি দাম দিতে রাজি হননি ক্রেতারা।
তাড়াশ পৌর সদরের বাসিন্দা রহিম জানান, প্রায় ১ লাখ ৪৯ হাজার টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় গরু কোরবানি দেওয়ার পর তার চামড়া মাত্র ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। তিনি বলেন, ওই ক্রেতার কাছে বিক্রি না করলে হয়তো চামড়াটি বিক্রিই হতো না।
লালুয়া মাঝিড়া গ্রামের বাসিন্দা সংগ্রাম বলেন, তিনি ২০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ছাগল কোরবানি দিলেও চামড়ার কোনো মূল্য পাননি। তার মতে, গরুর চামড়ার কিছুটা দাম থাকলেও ছাগলের চামড়ার বাজার একেবারেই নেই।
সন্ধ্যায় তাড়াশ মডেল মসজিদ সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতার অভাবে অনেক বিক্রেতা চামড়া নিয়ে অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ শেষ পর্যন্ত চামড়া মাঠেই ফেলে রেখে চলে যাচ্ছেন।
তাড়াশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা মো. এম. এ. মাজিদ বলেন, কোরবানির সময় মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংগুলোর আয়ের অন্যতম উৎস হলো চামড়া বিক্রির অর্থ। কিন্তু বাজারে দাম না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। তিনি জানান, চামড়া সংরক্ষণের সুবিধার্থে কোরবানির আগেই বিভিন্ন মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করা হয়েছে।
মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী মো. মফিজ উদ্দিন বলেন, মোকামের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই স্থানীয়ভাবে চামড়া কিনতে হচ্ছে। এছাড়া অপেশাদারভাবে চামড়া ছাড়ানোর কারণে অনেক চামড়ায় ত্রুটি থাকে, যা ক্রেতাদের আগ্রহ কমিয়ে দেয়। তবে সঠিকভাবে লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যতে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।