ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

১৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ

কুমিল্লার প্রশাসককে 'মূর্খ' বললেন সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ!


আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ফাইল ছবি

  • আপলোড সময় : রবিবার ৩১ মে, ২০২৬ সময় : ৯:১০ এএম

কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের তীব্র ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখপাত্র এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন দাবি করে কুমিল্লা জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মোস্তাক মিয়াকে সরাসরি ‘মূর্খ’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। শনিবার (৩০ মে) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় তিনি এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান।

সম্প্রতি কুমিল্লা জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মোস্তাক মিয়া অভিযোগ তোলেন যে, আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টা পদে থাকাকালীন সময়ে জেলা পরিষদ থেকে অন্যায়ভাবে ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন। এই অভিযোগের পর দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হলে আসিফ মাহমুদ বিষয়টি জনসম্মুখে পরিষ্কার করতে লাইভে আসেন। ভিডিওতে ক্ষোভ প্রকাশ করে এনসিপি মুখপাত্র বলেন, বিএনপি কোথা থেকে এমন সব মূর্খ লোকজনকে ধরে নিয়ে এসে প্রশাসকের দায়িত্বে বসাচ্ছে, যাদের বিন্দুমাত্র প্রশাসনিক ধারণা নেই। যাদের না আছে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা, আর না আছে সাধারণ বোঝাপড়া। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, আপনারা তো দেখতেই পাচ্ছেন জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কারা হয়েছেন। যারা বিগত নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন, দল থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত ছিলেন এবং যাদের দেশের সাধারণ জনগণ সম্পূর্ণ রিজেক্ট বা বর্জন করেছে, দল যাদের সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার যোগ্য মনে করেনি, তাদেরকেই এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই ধরণের অযোগ্য লোকেরাই এখন দায়িত্ব পেয়ে চারদিকে উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলে বেড়াচ্ছেন।

টাকা নেওয়ার অভিযোগের মূল প্রসঙ্গ টেনে আসিফ মাহমুদ দেশের সরকারি অর্থ বরাদ্দের পুরো প্রক্রিয়াটি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, বিষয়টির প্রশাসনিক সত্যতা সবার জানা দরকার। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক বাজেট ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল প্রায় ৪২ থেকে ৪৩ হাজার কোটি টাকার মতো, যা বিগত অর্থবছরে ছিল প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল অর্থের একটি অংশ থাকে স্থানীয় সরকার বিভাগের বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে। এই বিশেষ অর্থ স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টা যেকোনো উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের জনগুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে নিজস্ব বিবেচনায় বরাদ্দ দিতে পারেন। এর বাইরেও সাধারণ সরকারি বরাদ্দ প্রোপোশনেটলি বা আনুপাতিক হারে নির্ধারিত হয়ে থাকে। যেমন কুমিল্লা একটি বড় জেলা এবং ফেনী একটি ছোট জেলা। কুমিল্লায় উপজেলার সংখ্যা ফেনীর চেয়ে অনেক বেশি। তাই কয়টি উপজেলা রয়েছে, মোট জনসংখ্যা ও ভোটার কত—সেটি বিবেচনা করেই এই সাধারণ বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা প্রতি বছরই চার ধাপে উন্মুক্ত করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্রশাসক বা চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে একটি নির্দিষ্ট কমিটি বসে নির্ধারণ করে এই অর্থ কীভাবে এবং কোন খাতে খরচ করা হবে। পরে তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

আসিফ মাহমুদ বলেন, কুমিল্লা জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মোস্তাক মিয়া প্রথমেই একটা বড় মিথ্যা কথা বলেছেন। দেশের সরকারি রাজস্ব খাত থেকে ব্যক্তিগতভাবে কারও কোনো টাকা নেওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। উনি মূলত রাজস্ব খাত ও এডিপির (ADP) বিশেষ বরাদ্দের নিয়মের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেছেন। আমার যতদূর প্রশাসনিক জ্ঞান আছে, ১০০ থেকে ১২৫ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার এখতিয়ার একজন মন্ত্রী বা উপদেষ্টার হাতে থাকে এবং তা বিভিন্ন আবেদনের ভিত্তিতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় দেওয়া হয়। বরাদ্দ দেওয়ার পরেও জেলা পরিষদের প্রশাসক বা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন কমিটিই বসে ঠিক করে টাকাটা কোন কোন উপখাতে খরচ হবে। কুমিল্লাতেও ঠিক একইভাবে নিয়ম মেনে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ডিসিরা (DC) বসে ঠিক করেছেন তা কোথায় খরচ হবে।

সাবেক এই উপদেষ্টা অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, বিএনপি জেলা পরিষদের প্রশাসকের জায়গায় এমন একজন লোককে বসিয়েছে যিনি সরকারের টাকা 'নিয়ে যাওয়া' এবং রাষ্ট্রীয় 'বরাদ্দ দেওয়া'র মধ্যকার সাধারণ পার্থক্যটুকুও বোঝেন না। বিএনপির উচিত ছিল এদের নিয়োগ দেওয়ার আগে ন্যূনতম প্রশাসনিক ট্রেনিং দেওয়া। দেশের একজন এসএসসি পাস সাধারণ মানুষও বোঝেন রাজস্ব খাত ও বিশেষ বরাদ্দ খাতের পার্থক্য কী এবং তা খরচের প্রসেস বা প্রক্রিয়া কেমন। এই পুরো অর্থ বরাদ্দের প্রক্রিয়ার সঙ্গে আমার কিংবা হাসনাত আব্দুল্লাহর ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট থাকার কোনো আইনি বা প্রশাসনিক সুযোগ নেই। এটি সম্পূর্ণ জেলা পরিষদের মাসিক সভায় সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর