বাগেরহাটের রামপালে ইখলাস গাজী (৫০) নামের এক যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৩১ মে) দুপুরে রামপাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ইখলাস উপজেলার শ্রীফলতলা দক্ষিণপাড়া গ্রামের মৃত দুলাল গাজীর ছেলে। তিনি রামপাল সদর ইউনিয়নের যুবলীগের সহসভাপতি ছিলেন এবং রামপাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেনের গাড়িচালক ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী দোকানি হুমায়ুন বলেন, ইখলাস গাজী চা খেয়ে বেঞ্চের ওপর বসা ছিলেন। কিছুক্ষণ পরে মাহাবুবুর রহমান শিকদার ওরফে মাইঝে শিকদার নামের এক ব্যক্তি এসে দূর থেকে ইখলাসকে গালিগালাজ করেন। কিছুক্ষণ গালিগালাজ করার পরে ইখলাসকে এসে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। এক পর্যায়ে ইখলাস মাটিতে পড়ে গেলে সেখান থেকে চলে যান মাহাবুব।
নিহতের বড় ভাই ইলিয়াস গাজী অভিযোগ করেন, মাহাবুবুর রহমান শিকদার ওরফে মাইঝে শিকদারসহ চার-পাঁচজন লোক ইলিয়াস গাজীকে বেধড়ক মারপিট করেছে। তারা কোনো লাঠি বা অস্ত্র ব্যবহার করেনি, হাত দিয়েই মাথা, বুক, কানসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেছে। তাদের আঘাতেই ইখলাস গাজীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা ইখলাসকে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল বলেন, মৃত অবস্থায়ই ইখলাসকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তার শরীরে কোনো অস্ত্রের আঘাত ছিল না। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
রামপাল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুব্রত বিশ্বাস জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা মামলা দেওয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দিলে মামলা দায়ের করা হবে। পুলিশ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে সব ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।