স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর:
গাজীপুরের কাশিমপুরে তুরাগ নদীতে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৪২ ঘণ্টা পর রাসেল (২২) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কাশিমপুরের সাতাইশকান্দি এলাকা থেকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা।
নিহত রাসেল কাশিমপুর থানাধীন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দবাড়ী এলাকার ফজল আলীর ছেলে। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে কাশিমপুরের নামাবাজার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের জেলেপাড়া এলাকার তুরাগ নদীতে বন্ধুদের সঙ্গে নৌভ্রমণে বের হন রাসেল। ঈদের ছুটিকে ঘিরে কয়েকজন বন্ধু মিলে নৌকায় করে নদীতে ঘুরতে যান তারা। এ সময় নৌকায় ডিজে গান বাজিয়ে আনন্দ-উল্লাস চলছিল।
একপর্যায়ে রাসেল ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে পড়ে যান। সঙ্গে থাকা বন্ধুরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও মুহূর্তের মধ্যেই তিনি পানির নিচে তলিয়ে যান এবং নিখোঁজ হয়ে পড়েন।
ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। তবে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রোববার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
নিখোঁজ যুবককে উদ্ধারে ডুবুরি দলের পাশাপাশি স্থানীয় জেলে, নৌকার মাঝি এবং এলাকাবাসী ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালান। নদীর তীরজুড়ে শত শত উৎসুক মানুষের ভিড় জমে যায়। স্বজনদের কান্না, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
দীর্ঘ ৪২ ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর সোমবার দুপুরে সাতাইশকান্দি এলাকায় নদীর পানিতে ভাসমান অবস্থায় রাসেলের মরদেহ দেখতে পান তার স্বজনরা। পরে মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, নদীতে দুর্ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করা গেলে হয়তো অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারত। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে রাসেলের মৃত্যুর খবরে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। এলাকাবাসীও এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।