ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন ঘোষণায় ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অটোগ্যাসের মূল্যও হ্রাস করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্যহার ঘোষণা করে বিইআরসি। সংস্থাটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন মূল্যহার তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
নতুন দামে ১২ কেজি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার ১ হাজার ৯৪০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৮৮৫ টাকায় পাওয়া যাবে। এতে সাধারণ ভোক্তাদের কিছুটা স্বস্তি মিলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের মূল্য ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করেছে কমিশন। ফলে অটোগ্যাস ব্যবহারকারী পরিবহন মালিক ও চালকরাও এই মূল্যহ্রাসের সুফল পাবেন।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্য ওঠানামার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে। সেই বিবেচনায় প্রতি মাসে মূল্য সমন্বয়ের অংশ হিসেবে বিইআরসি নতুন দর নির্ধারণ করে থাকে।
তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এলপি গ্যাসের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। সর্বশেষ গত ১৯ এপ্রিল ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এরও আগে ২ এপ্রিল একই সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৭ টাকা করা হয়েছিল।
অর্থাৎ মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় ১২ কেজি সিলিন্ডারের মূল্য মোট ৫৯৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল। সেই বড় মূল্যবৃদ্ধির পর এবার প্রথমবারের মতো দাম কমানোর ঘোষণা এলো।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ৫৫ টাকা মূল্য কমলেও আগের তুলনায় গ্যাসের দাম এখনো বেশ উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে ভোক্তারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে দাম না নামায় অনেকেই পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন।
বাংলাদেশে শহর ও গ্রামাঞ্চলে রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপি গ্যাসের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পাইপলাইনের গ্যাস সুবিধা নেই, সেখানে এলপি গ্যাসই প্রধান জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এর মূল্য পরিবর্তন সরাসরি লাখো পরিবারের ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলে।
এদিকে অটোগ্যাসের দাম কমায় পরিবহন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ভোক্তাদের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশের বাজারেও তার প্রতিফলন আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে দেখা যাবে।
বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, আমদানি ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উপাত্ত বিবেচনায় নিয়ে ভবিষ্যতেও এলপি গ্যাস ও অটোগ্যাসের মূল্য নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে।