সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি / : 66
রেজাউল করিম ঝন্টু, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
তীব্র গরমে কিছুটা স্বস্তি পেতে, শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করতে এবং পানিশূন্যতা দূর করে শরীর সতেজ রাখতে সিরাজগঞ্জের তাড়াশসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখন ব্যাপকভাবে তালের শাঁসের দিকে ঝুঁকছেন। এতে করে বাজারে তালের শাঁসের কদর এখন আকাশচুম্বী পর্যায়ে পৌঁছেছে।
চাহিদা বাড়ায় দামও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে দাম বেশি হলেও ক্লান্ত ও শ্রমজীবী মানুষ তালের শাঁস কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন। বিশেষ করে দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষের কাছে এটি গ্রীষ্মকালীন প্রাকৃতিক পানীয় হিসেবে বিশেষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
তাড়াশ নিমগাছী আঞ্চলিক সড়কটি স্থানীয়দের কাছে ‘তাল সড়ক’ নামে পরিচিত। সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছগুলো এ এলাকার বিশেষ বৈশিষ্ট্য। স্থানীয়দের মতে, এই তালগাছ রোপণ করেন তৎকালীন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা জনাব আব্দুর রহমান (১০৩)।
সরেজমিনে দেখা যায়, সোমবার (২ জুন) নিমগাছী-তাড়াশ আঞ্চলিক সড়কের খাদ্য গুদাম মোড়ে দেদারছে বিক্রি হচ্ছে তালের শাঁস। এখান থেকে পাইকারি বিক্রি বেশি হয় এবং সেখান থেকে ক্রয় করা শাঁস দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করা হয়।
তালের শাঁস বিক্রেতা পৌর এলাকার উত্তর বাঁধের ঘেলু সামাদ বলেন, তিনি প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে কচি তাল সংগ্রহ করেন এবং গাছ থেকে তাল সংগ্রহ করে বাজারজাত করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আকার ও সংখ্যার ভেদে একটি গাছের তাল ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় কেনা হয়। প্রতি পিস তাল পাইকারি ৫ থেকে ৭ টাকায় বিক্রি হয়, আর খুচরা বাজারে ৫ থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করা হয়। খুচরা ও পাইকারি মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার তালের শাঁস বিক্রি হয়।
আরেক বিক্রেতা সাইদুর বলেন, এই মৌসুমে প্রায় অর্ধশতাধিক মৌসুমি শ্রমিক তালের শাঁস বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অনেক ক্রেতা নিজেরা খাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের জন্যও কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
সিরাজগঞ্জ থেকে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল আজিম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তাড়াশ থেকে তালের শাঁস কিনে সিরাজগঞ্জ শহরে বিক্রি করেন। তিনি গাছ ধরে তাল কেনেন, যার দাম আকার ভেদে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে পড়ে। শহরে তিনি পাইকারি ও খুচরা দুইভাবেই বিক্রি করেন।
ক্রেতা মুক্তা বলেন, মৌসুমি ও সুস্বাদু ফল হওয়ায় তালের শাঁসের প্রতি তাদের আগ্রহ কমে না। তাই প্রতি বছরই তারা এই সময় তালের শাঁস কিনে খেয়ে থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাত রোধে তালগাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, তাই রাস্তার ধারে ও খালের পাড়ে তালগাছ রোপণ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। কৃষি অফিস ও বিভিন্ন সংগঠন ইতোমধ্যে তালগাছ রোপণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তালশাঁসের প্রায় পুরো অংশই পানি হওয়ায় এটি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে এবং শরীর সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এতে আয়রন থাকায় এটি লিভারের সমস্যা কমাতে সহায়ক। এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য ও হজমজনিত সমস্যা দূর করতেও এটি কার্যকর। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অপরিচ্ছন্নভাবে খেলে ডায়রিয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।