আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।
বরগুনার তালতলী উপজেলায় জমির দলিল চাইতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মোসাঃ কহিনুর বেগম। তার অভিযোগ, পুলিশের এএসআই মোঃ খলিলুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন তাকে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছেন। এ ঘটনায় তিনি এএসআই খলিলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
বুধবার (৩ জুন) আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালতের বিচারক মোঃ ইফতি হাসান ইমরান মামলাটি আমলে নিয়ে তালতলী থানার ওসিকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তালতলী উপজেলার গাবতলী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ইসমাইল ঘরামী তার বাবা হামেদ ঘরামীর কাছ থেকে ৩৩ শতাংশ জমি ক্রয়ের জন্য ৩০ হাজার টাকা প্রদান করেন। তবে ২০১৩ সালে ইসমাইল ঘরামীর মৃত্যুর পরও ওই জমির দলিল তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
মোসাঃ কহিনুর বেগমের দাবি, গত শনিবার সকালে তিনি পুনরায় জমির দলিলের বিষয়ে কথা বলতে গেলে হামেদ ঘরামী, তার ছেলে এএসআই মোঃ খলিলুর রহমান এবং তাদের সহযোগীরা তার ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
মামলায় হত্যা চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও আনা হয়েছে। কহিনুর বেগম অভিযোগ করেন, হামলার সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয় এবং লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, এএসআই খলিলুর রহমান তাকে পিস্তল দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন।
তবে এএসআই মোঃ খলিলুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং তিনি কাউকে মারধর করেননি।
আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার মোঃ আবু বকর জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তালতলী থানাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
তালতলী থানার ওসি মোঃ সাইদুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ভোলা জেলা পুলিশ সুপার মোঃ শহীদুল্লাহ কাওছার বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এএসআই খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।