ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

বিদ্যুতের দামে ঐতিহাসিক লাফ: বাড়ছে সংসার, কৃষি ও শিল্পের উৎপাদন ব্যয়


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৪ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:৪৭ পিএম

দীর্ঘ ২৭ মাস পর দেশের বাজারে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা দাম আবারও বাড়ানো হয়েছে। এবার গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট) বিদ্যুতের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫২ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রাহকশ্রেণিভেদে এই নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবাপণ্যের দাম ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই নতুন খুচরা মূল্যহার ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের পাইকারি দাম ও সঞ্চালন মাশুলও বাড়িয়ে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, চলতি জুনের এক তারিখ থেকেই নতুন দরে বিদ্যুৎ কিনতে হবে দেশের জনগণকে। দেশের ইতিহাসে একবারে ও একধাপে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির পরিমাণে এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড। সব মিলিয়ে জ্বালানি তেল ও খাওয়ার তেলসহ নিত্যব্যবহৃত পণ্যের আকাশছোঁয়া দামের মধ্যে বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধি সীমিত ও নির্ধারিত আয়ের সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে মারাত্মক আর্থিক চাপ তৈরি করবে। একই সঙ্গে কৃষি ও শিল্পপণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিয়ে মূল্যস্ফীতির ধাক্কাকে আরও বড় করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে নতুন দর ঘোষণা করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মিজানুর রহমান, সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার। নতুন মূল্যহার অনুযায়ী, গ্রাহকদের বিদ্যুতের চাপ ও ব্যবহৃত পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সর্বনিম্ন দাম ৫ টাকা ৩২ পয়সা রাখা হয়েছে কেবল ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের জন্য। অন্যদিকে সর্বোচ্চ ২৩ টাকা ৮১ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কিনতে হবে ‘এলটি-টি’ অস্থায়ী গ্রাহকদের। পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১৯.৮৫ শতাংশ বাড়ানোর পরও বিদ্যুৎ খাতে বছরে সরকারের প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা লোকসান হবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান। এই বিপুল পরিমাণ টাকা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) ভর্তুকি হিসেবে দিতে হবে সরকারকে। পাইকারিতে বর্তমানে ইউনিট প্রতি দর ৭.০৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে গড় দাম ৮.৩৯ টাকা করা হয়েছে, যার ফলে সরকারের বাড়তি ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা আয় হবে। অন্যদিকে সঞ্চালন মাশুল গড় ইউনিট প্রতি ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৩৯ পয়সা করা হয়েছে।

২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত দেশের বিদ্যুৎ বিতরণকারী ছয়টি সংস্থার মোট গ্রাহকসংখ্যা ৪ কোটি ৯৮ লাখ ৪ হাজার ৪৮১। এর মধ্যে গৃহস্থালি গ্রাহক রয়েছেন ৪ কোটি ২৫ লাখ tracking ৭৪ লাখ ১২১। বর্তমানে পিডিবি, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন ৮০টি সমিতি, ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো ও নেসকো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ করছে। সব সংস্থা ও কোম্পানি মিলিয়ে ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকসংখ্যা ১ কোটি ৭৮ লাখ ৮২ হাজার ৩৮০। এর মধ্যে সিংহভাগ ১ কোটি ৬১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৯১ গ্রাহকই পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের। আবাসিক গ্রাহকদের প্রায় ৪২ শতাংশই এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। যেসব গ্রাহকের বিদ্যুতের ব্যবহার মাসে ৫০ কিলোওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাদেরকে লাইফলাইন গ্রাহক বলা হয়। এরা মূলত সীমিত আয়ের পরিবার, যাদের বড় অংশ কৃষি, দিনমজুরি ও অনানুষ্ঠানিক খাতের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। এই নিম্নআয়ের পরিবারগুলোতে ইউনিট প্রতি ৬৯ পয়সা অতিরিক্ত খরচ বাড়ায় তা সরাসরি পারিবারিক ব্যয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

আবাসিক গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬.৬৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। সর্বনিম্ন লাইফলাইন গ্রাহকের ১৫ শতাংশ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১৯.৯৪ শতাংশ পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল মাসে প্রায় ৩৫ টাকার মতো বেড়ে যাবে। আর আবাসিকে যারা ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহার করেন, তাদের মাসিক বিল বাড়বে প্রায় ১ হাজার ৬৪৪ টাকা। আনুপাতিক হারে ভ্যাটের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। আবাসিকে আরও ছয়টি ধাপ রয়েছে; প্রথম ধাপে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীর বিল ইউনিটপ্রতি ৫.২৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬.১৮ টাকা, দ্বিতীয় ধাপে ৭৬-২০০ ইউনিট পর্যন্ত ৭.২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮.৫০ টাকা, ২০১-৩০০ ইউনিট পর্যন্ত ৭.৫৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে Injury ৯.১০ টাকা, ৩০১-৪০০ ইউনিট পর্যন্ত ৮.০২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯.强২ টাকা, ৪০১-৬০০ ইউনিট ১২.৬৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫.০১ টাকা এবং সর্বশেষ ধাপ ৬০০ ইউনিটের ঊর্ধ্বে ব্যবহারকারীদের বিল ইউনিট প্রতি ১৪.৬১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭.৩৫ টাকা করা হয়েছে। এই দর মূলত নিম্নচাপ শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

মধ্যমচাপে (১১ কেভি) ৫০ কিলোওয়াট থেকে ৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত গ্রাহকদের ফ্ল্যাট রেট ১০.৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২.৫০ টাকা, অফ-পিকআওয়ারে ৯.Statuses৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১.২৫ টাকা এবং পিকআওয়ারে (সান্ধ্যকালীন) ১৩.২৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫.৬২ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে কৃষি সেচের (निम्नচাপ) দর ইউনিট প্রতি ৫.২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬.০৪ টাকা করা হয়েছে। সেচে মধ্যমচাপে (১১ কেভি) ফ্ল্যাট রেটে ৬.৪২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭.৩৮ টাকা, অফ-পিকে ৮.৬৩ টাকা থেকে কমিয়ে ৬.৬৪ টাকা এবং পিকে ৮.০৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯.২৩ টাকা করা হয়েছে। কৃষি সেচে ইউনিট প্রতি ৭৯ পয়সা এবং হাসপাতালে ১.৫০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। নিম্নচাপে শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালে ইউনিট প্রতি ৭.৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯.০৫ টাকা করা হয়েছে। বৈদ্যুতিক যানবাহন ও ব্যাটারি চার্জিংয়ের (निम्नচাপ) ফ্ল্যাট রেট ইউনিট প্রতি ৯.৫৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১.৩৬ টাকা, অফ-পিকে ৮.৬৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০.২২ টাকা, সুপার অফ-পিকে ৭.৭১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯.০৯ টাকা এবং পিকে ১২.১৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪.২০ টাকা করা হয়েছে।

এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পেও বাড়তি খরচ গুনতে হবে। নিম্নচাপে (২৩০/৪০০ ভোল্ট) ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের জন্য পিক আওয়ারে ইউনিট প্রতি ১২.৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫.২৭ টাকা; অফ-পিকে ৯.৬৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১.৪৫ টাকা এবং ফ্ল্যাট রেট ১০.৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২.৭৩ টাকা করা হয়েছে। বাণিজ্যিক ও অফিসের জন্য নিম্নচাপে পিক আওয়ারে ইউনিট প্রতি ১৫.৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮.৪৩ টাকা; অফ-পিকে ১১.৭১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩.৮২ টাকা এবং ফ্ল্যাট রেট ১৩.০১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫.৩৬ টাকা করা হয়েছে। মধ্যমচাপ (১১ কেভি) বাণিজ্যিক ও অফিসের জন্য পিকে ইউনিট প্রতি ১৪.৫৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭.৪১ টাকা এবং ফ্ল্যাট রেট ১১.৬৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩.৯৩ টাকা করা হয়েছে। উচ্চচাপে (৩৩ কেভি) ফ্ল্যাট রেটে ১১.Snapshot৩৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩.৬৩ টাকা এবং উচ্চচাপ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ফ্ল্যাট রেটে ১০.৭five টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২.৭৫ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া অতি উচ্চচাপ (১৩২ কেভি এবং ২৩০ কেভি) সাধারণ শ্রেণিতেও দাম বাড়ানো হয়েছে, যা সামগ্রিক শিল্প উৎপাদন ব্যয়কে অনেক বাড়িয়ে দেবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর