ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

মোট মৃত্যুর ৪৪ শতাংশই মোটরসাইকেলে

ঈদুল আজহার ১৩ দিনে সড়কে ঝরল ২৮১ প্রাণ


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৪ জুন, ২০২৬ সময় : ৫:০৫ পিএম

সদ্য সমাপ্ত পবিত্র ঈদুল আজহার আগে ও পরে মোট ১৩ দিনে দেশের সড়কগুলোতে এক রক্তক্ষয়ী উৎসবের চিত্র ফুটে উঠেছে। গত ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় মোট ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। আর এসব ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অকালে প্রাণ হারিয়েছেন ২৮১ জন মানুষ এবং মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন ৮৩৭ জন যাত্রী ও পথচারী। সড়ক দুর্ঘটনার এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই ১৩ দিনে প্রতিদিন গড়ে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ২২ জন মানুষ। ঈদযাত্রা শেষে সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহ এই বার্ষিক ও বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তারা এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এবারের ঈদে মোট প্রাণহানির প্রায় অর্ধেকই ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কারণে। ১৩ দিনে দেশে মোট ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং এতেই নিহত হয়েছেন ১২৪ জন মানুষ। এই সংখ্যাটি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট নিহতের ৪৪ শতাংশেরও বেশি, যা ঈদযাত্রায় বেপরোয়া মোটরসাইকেল রাইডিং বা চালানোর এক ভয়ানক চিত্র তুলে ধরে। এছাড়া সড়কে নিহতদের সামগ্রিক পরিচয় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রাণ হারানোদের মধ্যে ৩৪ জন নারী, ৪৮ জন অবুঝ শিশু এবং ৩৭ জন সাধারণ পথচারী রয়েছেন, যারা সড়কের পাশে বা পারাপারের সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন।

বিভাগভিত্তিক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা বিভাগে। কেবল ঢাকা বিভাগেই ৯৫টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং এতে নিহত হয়েছেন ১০১ জন মানুষ। অন্যদিকে এই সময়ে দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের গভীর পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা মতে, সড়কে এই বিপুল প্রাণহানি ও দুর্ঘটনার পেছনে মূলত বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ দায়ী। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান কারণগুলো হলো—যানবাহনের বেপরোয়া গতি, যান্ত্রিকভাবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন মহাসড়কে নামানো, চালকদের অদক্ষতা ও অসচেতনতা, দুর্বল ট্রাফিক বা সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে মোটরসাইকেল চালানো।

সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, বিগত বছরের তুলনায় এবারের ঈদে প্রাণহানি কিছুটা কমলেও দেশের সার্বিক সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত বা আশানুরূপ কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যায়নি। ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে হলে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে দেশের রেল ও নৌপথের কার্যক্ষমতা ও সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করতে হবে এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকর ও আইনি বাস্তবায়ন করার জোর তাগিদ দিয়েছে তারা। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, একই সময়ে কেবল সড়কপথই নয়, বরং জলপথ ও রেলপথও রক্তক্ষয়ী ছিল। এই ১৩ দিনে দেশে মোট ১৩টি নৌপথ বা জলপথ দুর্ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ৮ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। একই সাথে জলপথের দুর্ঘটনায় কোরবানির ২৪টি গরুও মারা গেছে। অন্যদিকে দেশে ২২টি রেলপথ দুর্ঘটনা ঘটেছে, যাতে নির্মমভাবে ১৭ জন নিহত এবং ৯ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনের শেষ অংশে এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পেশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। তাদের সুপারিশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলকে (এনআরএসসি) প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী করা; বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিটিসিএ-এর মতো দেশের সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা; সড়কে আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা; সড়ক থেকে দ্রুত সমস্ত মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন স্থায়ীভাবে প্রত্যাহার করা; উন্নত ও আরামদায়ক গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো; প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত চালক তৈরি করা; দেশের প্রতিটি মহাসড়কে নিরাপদ সড়ক ও বৈধ রেলক্রসিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে সড়ক সচেতনতা বৃদ্ধি করা; সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক দক্ষতা ও সততার উন্নয়ন ঘটানো এবং সড়ক, রেল ও নৌ-পরিবহন ব্যবস্থাকে একটি অভিন্ন সুতোয় বেঁধে একটি শক্তিশালী যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠনের জোর সুপারিশ করা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর