বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বহুজাতিক কোম্পানি ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান মাসুদ খান। বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের পুঁজিবাজার-১ শাখার উপসচিব ফারজানা জাহান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসির গ্রুপ সিইও মাসুদ খানকে অন্যান্য সকল প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩-এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী যোগদানের তারিখ থেকে চার বছরের জন্য এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি সরকারের সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
জানা গেছে, মাসুদ খান ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ারের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দীর্ঘ ৪৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক ও স্থানীয় কোম্পানিতে কাজ করার ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। তিনি ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ক্রাউন সিমেন্ট গ্রুপে যোগদানের আগে তিনি লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশে ১৮ বছর প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিভিন্ন পদে দেশে ও বিদেশে ২০ বছর কাজ করেছেন। এছাড়া তিনি সিঙ্গার বাংলাদেশ এবং কমিউনিটি ব্যাংকের একজন স্বতন্ত্র পরিচালক ও অডিট কমিটির প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে, মাসুদ খানের নিয়োগের দিনে বিএসইসির তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও সংস্থাটির চার কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে তারা পদত্যাগপত্র জমা দেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পদত্যাগকারী চার কমিশনার হলেন— মহসিন চৌধুরী, আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ ও সাইফউদ্দিন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তারা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
পুঁজিবাজারের বর্তমান প্রেক্ষাপটে একজন অভিজ্ঞ পেশাদার হিসেবে মাসুদ খানের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মাসুদ খানের নেতৃত্বে দেশের পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী চার বছর তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন।