আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই বড় অংকের বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবারের বাজেটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জিডিপির সাড়ে ৩ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব দিয়েছিল। মন্ত্রণালয়ের সেই চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ২ শতাংশ বরাদ্দের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। এটি কার্যকর হলে তা আগের অর্থবছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। মন্ত্রী আরও জানান, সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিক্ষাখাতে এই বরাদ্দের হার পর্যায়ক্রমে ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
মতবিনিময়ের সময় শিক্ষামন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা নিয়ে চলমান সংকটের প্রসঙ্গটি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, আগের সময়ে এই খাত থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা তছরুপ করা হয়েছে, যার ফলে শিক্ষকদের অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা প্রদান বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। শিক্ষকদের এই দুর্ভোগ লাঘবে মন্ত্রী দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে একটি থোক বরাদ্দ থেকে কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসরকালীন ভাতা পুনরায় চালু করা হবে।
শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন ও গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র অবকাঠামো নয়, বরং শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও যুগোপযোগী কারিকুলাম বাস্তবায়নে এই বাজেট মাইলফলক হয়ে থাকবে। দেশের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকের ফলে শিক্ষক মহলে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে বকেয়া থাকা অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পাওয়ার খবরে শিক্ষকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। আগামী বাজেটে বরাদ্দের এই সাহসী সিদ্ধান্ত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের এই ঘোষণা বাস্তবায়ন হলে তা দেশের শিক্ষা খাতের দীর্ঘস্থায়ী সংকট কাটিয়ে উঠতে বড় ভূমিকা রাখবে।