গাজীপুর প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুরে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর নাঈম (২৭) নামে এক কাঁচামাল ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার উপজেলার বরমী ইউনিয়নের শেখেরঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নিহত নাঈম বরমী ইউনিয়নের বড়নল গ্রামের বাসিন্দা এবং জামাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি স্থানীয় বরমী বাজারে প্রতি বুধবার কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। পাশাপাশি বাড়ির পাশের একটি পুকুর ভাড়া নিয়ে মাছ চাষের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে নাঈম মাছের প্রজেক্ট দেখতে টর্চলাইট নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেন।
নাঈমের বাবা জামাল উদ্দিন জানান, প্রথমবার ফোন করা হলে নাঈম কল কেটে দেন। পরে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছেও খোঁজ নেওয়া হয়, কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরদিন সকাল থেকে পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় লোকজন মিলে বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালান। নিখোঁজের বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অবশেষে বৃহস্পতিবার উপজেলার বরমী ইউনিয়নের শেখেরঘাট এলাকা থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের জন্য তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
স্থানীয়দের মতে, নাঈম একজন পরিশ্রমী ও পরিচিত ব্যবসায়ী ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।