ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

বিজিবির অনড় অবস্থানের জয়:

পুশইনে ব্যর্থ হয়ে ২৮ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৬ জুন, ২০২৬ সময় : ৬:৫৪ পিএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে ২৮ জনকে পুশইন বা জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) প্রবল বাধায় সেটি সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের দুই দফা পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বিজিবির অব্যাহত বাধার মুখে ব্যর্থ হয়ে প্রায় দুইদিন পর শূন্যরেখা থেকে তাদেরকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম বলেন, গতকাল রাত পর্যন্ত তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছিল। কিন্তু আজ (শনিবার) সকাল বেলা থেকে তাদেরকে সেখানে দেখতে পাওয়া যায়নি। আমাদের গোয়েন্দা সূত্র ও ধারণামতে, তাদেরকে ফেরত নিয়েছে বিএসএফ। এছাড়া যে কোনো ধরনের পুশইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। সর্বদাই সীমান্তে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।

এদিকে বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর আনুমানিক ৩টার দিকে বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত ফাঁড়ির (বিওপি) সীমান্ত পিলার ২০৩/৬-আর দিয়ে ভারতের ১২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের আশরাফপুর ক্যাম্পের জোয়ানরা পুশইনের চেষ্টা চালায়। ভুক্তভোগী ২৮ জনের দলে ১২ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং ৬ জন শিশু রয়েছে বলে জানা যায়। পুশইনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত ফাঁড়ির একটি চৌকস টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের শনাক্ত করে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশে বাধা দেয়। ফলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান নেন।

এরপর সেদিন (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টা ও দুপুর আড়াইটার দিকে দুইবার পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে বিজিবি বিএসএফকে স্পষ্ট জানায়, বাংলাদেশি কোনো নাগরিক ভারতে থেকে থাকলে তাদেরকে প্রয়োজনীয় আইন অনুযায়ী দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু রাতের আঁধারে কাউকে পুশইন মেনে নেবে না বিজিবি। বিএসএফ জানায়, তারা দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তাদেরকে ভারতে ফেরত নেবে না। এর ফলে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় পতাকা বৈঠক। এতে করে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হয় ওই ২৮ জনকে। বিজিবির অনুরোধে তাদের দুপুরের খাবার দেয় বিএসএফ।

অপরদিকে বৃহস্পতিবার রাতভর বৃষ্টি হওয়ায় ওই ২৮ জন আমগাছের নিচে বৃষ্টিতে ভিজেই রাত পার করেছেন। এ সময় শূন্যরেখা থেকে তাদের কান্নার আওয়াজ শোনা গিয়েছিল। অবশেষে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তাদের ফেরত নিতে বাধ্য হয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী।


এ সম্পর্কিত আরো খবর