ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

খানজাহান আলীর মাজারের কুমির ফিরিয়ে আনার দাবি


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৭ জুন, ২০২৬ সময় : ৪:২১ পিএম

বাগেরহাট প্রতিনিধি

হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন ঐতিহাসিক দীঘি থেকে কুমির সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং কুমিরটি পুনরায় দীঘিতে ফিরিয়ে আনার দাবিতে বাগেরহাটে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শত শত বছর ধরে হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার, দীঘি ও কুমির বাগেরহাটের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিচিত। দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীদের কাছে কুমিরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ এবং বাগেরহাটের ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সাম্প্রতিক এক মর্মান্তিক ঘটনায় শিশুমৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং নিহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তবে তারা বলেন, একটি দুর্ঘটনার কারণে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাদের মতে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, সুরক্ষা বেষ্টনী নির্মাণ, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন এবং নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে কুমিরটিকে দীঘিতেই সংরক্ষণ করা সম্ভব ছিল।

বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় জনগণ, মাজার কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনায় না নিয়েই দ্রুত কুমির অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ, উদ্বেগ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।

তারা বলেন, মাজারের কুমির শুধু একটি প্রাণী নয়, এটি বাগেরহাটবাসীর আবেগ, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বহু বছর ধরে এটি মাজারকেন্দ্রিক সংস্কৃতি ও পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত। তাই কুমিরটিকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে পুনরায় মাজারের দীঘিতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা সরকার, প্রশাসন এবং বন বিভাগের প্রতি জনগণের আবেগ, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা বাগেরহাটের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

বক্তাদের মতে, কুমিরটি শুধু স্থানীয় মানুষের আবেগের প্রতীক নয়, বরং এটি বাগেরহাটের পর্যটন সম্ভাবনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে কুমির পুনর্বহাল করা হলে ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটন খাতও উপকৃত হবে।

তারা আরও বলেন, যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন জনমতের প্রতিফলন ঘটবে, অন্যদিকে ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও জননিরাপত্তার মধ্যে একটি ভারসাম্যও বজায় থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফকির তরিকুল ইসরাম, ফকির পেয়ার আলী, সৈয়দ খালিদ আহম্মেদ, শেখ রবিউল ইসলাম, আল মামুন টিপু, শেখ আব্দুল জলিল, কাজী শাকিল, শেখ শামিম হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর