আজহারুল হক, ময়মনসিংহ / : 65
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে রাতের আঁধারে জুলাইযোদ্ধা ও ছাত্রদল নেতার বাণিজ্যিক মৎস্য খামারে মাছ চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। এ সময় সশস্ত্র ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অতর্কিত হামলায় মৎস্য প্রকল্পের সাথে জড়িত এবং পাহারারত কয়েকজন নিরীহ গ্রামবাসীও গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ রোববার (৭ জুন) ভোরে উপজেলার পাগলা থানার অন্তর্গত স্বল্পছাপিলা গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জুলাইযোদ্ধা মঈন খান ও গফরগাঁও সরকারি কলেজ ছাত্রদলের বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুষার খানের যৌথ নেতৃত্বে স্থানীয় প্রগতিশীল গ্রামবাসীরা স্বল্পছাপিলা গ্রামে নিজেদের জমিসহ স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে জমি ভাড়া নিয়ে গত ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে একটি আধুনিক বাণিজ্যিক মৎস্য খামার গড়ে তোলেন। খামারের জন্য স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি কাঠা জমি বছরে ৫ হাজার টাকা হারে মৌখিক চুক্তিতে লিজ বা ইজারা নেওয়া হয়। এই মৎস্য প্রকল্পের জমিতে স্থানীয় জামে mosques বা মসজিদের ওয়াকফকৃত সম্পত্তিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মৎস্য খামারটি সফলভাবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গফরগাঁও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহ আকরাম খান তসলিমের সরাসরি নেতৃত্বে টাংগাব ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল হক, আজিজুল হকের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ হাসান, অমিত, জাহিদ হাসান ও একদল অজ্ঞাতনামা সশস্ত্র লোকজন বেশ কয়েকবার দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মৎস্য খামারে জোরপূর্বক প্রবেশ করে শ্রমিকদের মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। ইতিপূর্বে তারা খামার থেকে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। তখন বাধা দিতে গেলে ছাত্রদল নেতা তুষার খানের বড় ভাই সারোয়ার হোসেনসহ কয়েকজনকে রামদা দিয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছিল।
এদিকে আজ রোববার ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে উক্ত মৎস্য খামারে আওয়ামী লীগ নেতা আজিজুল হক, ছাত্রলীগ নেতা নাহিদ হাসান, অমিত, জাহিদ হাসানসহ ১০/১২ জনের একটি দল ফের অবৈধভাবে জাল ফেলে চুরি করে মাছ ধরার সময় জুলাইযোদ্ধা মঈন খানের বাবা আকরাম খান ও ছাত্রদল নেতা তুষার খানের বাবা আতাউর রহমান টের পেয়ে ঘটনা স্থলে এগিয়ে যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পনোর পুকুর থেকে জোরপূর্বক মাছ ধরছে। এ সময় তারা মাছ ধরায় তীব্র বাধা দিলে আকরাম খান ও আতাউর রহমানের ওপর আচমকা হামলা চালায় আওয়ামী লীগের লোকজন।
পরে তাদের পরিবারের অন্য সদস্যরা ও গ্রামবাসী টের পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসলে সশস্ত্র আওয়ামী নেতা-কর্মীরা তাদের ধাওয়া করে হামলা চালায়। একপর্যায়ে গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে অপরাধীদের অবরুদ্ধ করে গণধোলাই দেয়। এতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়। এ ঘটনায় উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সালেহ আকরাম খান তসলিমের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, স্বল্পছাপিলা গ্রামের ওরপাথর বিলে মাছ ধরা নিয়ে মারামারি হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের লোকজন ছিল কিনা এ ব্যাপারে আমি বিস্তারিত অবগত নই।