মোস্তাক আহমেদ মনির, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) থেকে
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিবের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং দায়িত্বে চরম অবহেলার কারণে চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগে পড়েছেন দূর-দূরান্ত থেকে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ। আজ রবিবার (৭ জুন) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার ৪ নং আওনা ইউনিয়ন পরিষদে সরেজমিনে গিয়ে এই চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র দেখা যায়। ইউনিয়ন পরিষদের এই দৈনন্দিন কার্যকলাপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী নাগরিকেরা।
আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা বেগমের দাপ্তরিক কক্ষটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া সচিবের কক্ষটি খোলা থাকলেও তখন পর্যন্ত অফিসে আসেননি দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিব রাসেল মাহমুদ। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিকত্ব সনদ, ভিজিডি কার্ডের চাল গ্রহণ এবং চেয়ারম্যান ও সচিবের জরুরি স্বাক্ষরের জন্য সকাল থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইউনিয়ন পরিষদের বারান্দা ও পরিষদ চত্বরে বসে অপেক্ষা করছেন অসংখ্য সেবাগ্রহীতা। বিশেষ করে সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে চাল নিতে এসে বারান্দায় বসে আছেন ভিজিডি কার্ডধারী অসহায় নারীরা। ভুক্তভোগীরা জানান, এভাবে প্রায় প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় তাদের। কেউ কেউ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গ্রাম আদালতের কাঠের টেবিলের ওপরেই শুয়ে ঘুমিয়ে পড়ছেন। প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিবের ইচ্ছেমতো দেরি করে আসা এবং হঠাৎ অনুপস্থিতির কারণে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালত ও সালিস ব্যবস্থাও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তারা সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছেমতো দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করার কারণে গ্রামীণ নাগরিক সেবায় এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
নিজের মেয়ের জন্মনিবন্ধন সংশোধন করতে আসা স্থল গ্রামের বাসিন্দা বিলকিস বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার মেয়ে আয়েশার জরুরি প্রয়োজনে সরকারি ফিসহ জন্মনিবন্ধন করতে দিয়েছিলাম এখানকার এক গ্রাম পুলিশের কাছে। প্রায় ১ বছর হয়ে গেলো এখনো আমি সেই জন্মনিবন্ধন হাতে পাইনি। শুধু আজ-কাল বলে ঘুরাচ্ছে। এখন আমার মেয়ের স্কুলের ভর্তির জন্য জন্মনিবন্ধন খুবই প্রয়োজন, কিন্তু তারা সেটি দিচ্ছে না।"
ভিজিডি কার্ডের চাল নিতে আসা ভুক্তভোগী আসমা বেগম, হাফিজা বেগম, জয়নব বেওয়াসহ একাধিক সুবিধাভোগী কার্ডধারী নারী অভিযোগ করে বলেন, "আমরা সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বাড়ি থেকে এসে বসে আছি ভিজিডি কার্ডের চালের জন্য। তাঁরা সরকারি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করছেন এবং দাপ্তরিক সময়ের কোনো তোয়াক্কা করছেন না। এখন বেলা প্রায় ১২টা বাজতে চললেও সচিব বা চেয়ারম্যান কাউকেই পরিষদে পাওয়া যায়নি। যার কারণে আমরা এখনো চাল পাচ্ছি না। তারা অফিসে আসলে নাকি আমাদের কার্ডের চাল দেওয়া হবে।"
এদিকে বেলা প্রায় ১২টার দিকে আওনা ইউনিয়ন পরিষদে আসেন সচিব রাসেল মাহমুদ। এ সময় অফিসে দেরিতে আসার কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "আমার সন্তান সকাল থেকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, তাই অফিসে আসতে কিছুটা দেরি হয়েছে।" সরকারি অফিসে আসতে দেরি হলেও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখার অনুরোধ জানান তিনি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আওনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা বেগমের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল করা হলেও নাম্বারটি সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া যায়। সার্বিক বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজা আফসানা বলেন, "বিষয়টি ইতিমধ্যেই আমি স্থানীয় মাধ্যমে জেনেছি। কেন সচিব ও চেয়ারম্যান সময় মতো অফিসে আসেন না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"