শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে পাঁচ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়া শিক্ষার্থীদের বয়স ১১ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে হওয়ায় পরিবারগুলো চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পৃথক সময়ে তারা নিখোঁজ হলেও এই ধারাবাহিক ঘটনা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বুরুঙ্গা কালাপানি গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে ও স্থানীয় একটি হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী ইসরাফিল (১৫) গত ২৭ মে সকালে দোকানে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। এরপর গত ৬ জুন নালিতাবাড়ী শহরের আড়াইআনী বাজার এলাকায় অবস্থিত তাহফিজুল কোরআন মডেল মাদরাসার ছাত্র খন্দকার মাশরাফি (১৩) নিখোঁজ হয়। সে উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের বাসিন্দা।
সর্বশেষ গত ৭ জুন একই গ্রামের ইক্বরা মডেল হাফিজিয়া মাদরাসা থেকে তিন শিক্ষার্থী—রাব্বানী (১১), তোফায়েল (১২) ও রাসেল (১৩)—একসঙ্গে নিখোঁজ হয়। দুপুরের পর থেকে তাদের কোনো সন্ধান মিলছে না বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে রাব্বানী ও তোফায়েল অতীতেও কয়েকবার বাড়ি বা মাদরাসা থেকে চলে গিয়েছিল। পড়াশোনায় অনীহার কারণে তারা আগে থেকেই মাদরাসা থেকে পালানোর প্রবণতা দেখাত, যা তাদের পরিবারের উদ্বেগের অন্যতম কারণ। তবে এতগুলো শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা অভিভাবকদের মধ্যে এক বড় ধরনের শঙ্কার জন্ম দিয়েছে।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আফসান আল আলম জানান, ইসরাফিল ও মাশরাফির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। পাঁচগাঁও থেকে নিখোঁজ হওয়া তিন শিক্ষার্থীর অভিভাবকরাও জিডি করতে থানায় এসেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানে পুলিশ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’
একের পর এক শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনায় পুরো নালিতাবাড়ী এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত অভিভাবকরা তাদের দ্রুত উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।