সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ৭১ বিধিতে আলোচনার সময় রুমিন ফারহানা এই চিত্র তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
অপরাধের ভয়াবহ পরিসংখ্যান: টিআইবির প্রতিবেদনের তথ্য উদ্ধৃত করে রুমিন ফারহানা জানান, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনে দেশে অপরাধের মাত্রা আকাশচুম্বী হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:
খুন: গত মার্চ ও এপ্রিল মাসেই মোট ৬০৫টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।
অপহরণ: একই সময়ে ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।
ছিনতাই ও ডাকাতি: ২৯৪টি ছিনতাই এবং ৯০টি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
চুরি ও হামলা: এ সময় পুলিশের ওপর ১২৯টি হামলার ঘটনা এবং ২ হাজার ২১৪টি চুরির ঘটনা ঘটেছে।
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, উল্লেখিত সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ৪৯৬টি। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮ থেকে ১০২ জন, গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩০ থেকে ৩৬ জন এবং অন্তত ৪৯ থেকে ৭১ জন শিশু ধর্ষণের মতো নির্মম ঘটনার শিকার হয়েছে। রুমিন ফারহানার দাবি, এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নাজুক ও ভীতিজাগানিয়া।
সরকারের ব্যর্থতার দায়: রুমিন ফারহানা বলেন, “একটি সরকারের সামগ্রিক সফলতা বা ব্যর্থতার ৫০ ভাগই নির্ভর করে সেই দেশের অর্থনীতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর। সরকারের এই দুটি খাত পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত থাকলে তার ব্যর্থতার এই খতিয়ান আরও স্পষ্ট করে বলা সহজ হতো। তিনি মনে করেন, সরকারের সার্বিক সফলতার বড় অংশই মূলত অর্থ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই বর্তমান সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে।
সংসদে তার এই বক্তব্য তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বিরোধী পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের প্রতি কঠোর সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।