ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

পাবনায় ধর্ষণ ও হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে আগুন; ৩ জনের মৃত্যু


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৯ জুন, ২০২৬ সময় : ৩:৫০ পিএম

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনা সদর উপজেলায় এক কিশোরীকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যাকাণ্ডের জেরে চরম উত্তেজিত জনতার দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যুর এক অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও ট্রাজিক ঘটনা ঘটেছে। আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের পর সেখানে থাকা রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বা সিলিন্ডার বিস্ফোরণজনিত তীব্র অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ হয়ে রাজধানী ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার সকালে ঢাকার বিশেষায়িত এই বার্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এর আগে গতকাল সোমবার বিকেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল, যার ফলে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে এখন তিনে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন—পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার বাসিন্দা তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পার্শ্ববর্তী নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।

পুলিশ প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে ঘটনার বিস্তর বিবরণে জানা গেছে, গত বুধবার বিকেলে পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুর এলাকায় প্রমত্তা পদ্মা নদী থেকে রিয়া খাতুন নামের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর বস্তাবন্দি ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই নৃশংস ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের পরদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ৪ জুন নিহত কিশোরীর মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে অত্যন্ত শোকাচ্ছন্ন পরিবেশে দাফন করা হয়। দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরপরই এলাকার সর্বস্তরের চরম উত্তেজিত ও ক্ষুব্ধ জনতা একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত ঘাতক ও আসামিদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে এবং একপর্যায়ে তারা আসামিদের বাড়িঘরে চড়াও হয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন দেওয়ার পরপরই ফাঁকা ও পরিত্যক্ত বাড়ির ভেতরে থাকা রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই আকস্মিক ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের কবলে পড়ে আগুন নেভাতে আসা এবং আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকজন মানুষ গুরুতরভাবে দগ্ধ ও অগ্নিদগ্ধ হন। ঘটনার সময় লোকলজ্জা ও পুলিশের ভয়ে আসামিপক্ষের কোনো সদস্য বা আত্মীয়স্বজন বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে এই অগ্নিকাণ্ডে ও বিস্ফোরণে যারা দগ্ধ হয়েছেন, তারা সবাই মূলত প্রতিবেশী, আশপাশের নিরীহ মানুষ এবং ঘটনাস্থলে ভিড় করা উৎসুক জনতা।

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই স্থানীয়রা দগ্ধদের দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে তাদের অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরিভিত্তিতে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করেন। এই পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, রিয়া হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তেজিত জনতার দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় এ পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল একজন এবং আজ সকালে আরও দুইজনের মৃত্যুর খবর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের নিশ্চিত করেছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিসংযোগ, বিস্ফোরণ এবং মৃত্যুর ঘটনার পেছনে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে সম্পূর্ণাধীন ও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুর এলাকায় পদ্মা নদীর পাড়ে রাতে একটি রহস্যময় প্রাইভেটকারে ৪ জন যুবককে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গিয়েছিল এবং এর পরের দিন সকালেই নদী থেকে রিয়া খাতুন নামে ওই কিশোরীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়, যা পুরো জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এই ক্লুলেস বা রহস্যময় হত্যাকাণ্ডের পর জেলা পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সাথে তদন্ত চালিয়ে নিহতের কথিত ও প্রতারক প্রেমিক নাইমসহ এই ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত প্রধান তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে আসামিরা রিয়া খাতুনকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও পরে নির্মমভাবে হত্যা করার রোমহর্ষক ও লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই নৃশংস অপরাধের জেরে পুরো এলাকায় এখনও চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

ঢাকা টুডে / আরজে 


এ সম্পর্কিত আরো খবর