খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে প্রায়ই সোনা চোরাচালানের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার রাতেও সোনার একটি চালান পাচারের তথ্য পেয়ে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে চেকপোস্ট বসানো হয় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানের নির্দেশে। অভিযানে খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সোর্স অংশ নেন।
সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামান পুলিশ সদস্যরা। ওই অটোরিকশাতেই ছিলেন নাঈম হাসান। পুলিশ সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, নাঈম তার পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছেন। এ সময় বাকবিতণ্ডার মধ্যে লোকজন জড়ো হয় এবং নাঈমকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে শনাক্তও করে। কিন্তু তাতে কর্ণপাত না করে পুলিশের সোর্স তাকে মারধর শুরু করেন। পরে ওসি আরিফুর রহমানের নির্দেশে এসআই শফিকুল তাকে থানায় নিয়ে যান।
থানায় নেওয়ার পর পরিচয়পত্র দেখানোর পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। নাঈম জানান, ওসির সামনে তাকে চোখ নামিয়ে কথা বলতে হুমকি দেওয়া হয়। তবে ঠিক সেই মুহূর্তে ওসির মোবাইলে একটি কল আসার পর তার সুর পুরোপুরি বদলে যায় এবং তিনি নমনীয় হয়ে পড়েন।
নাঈমের বাবা মাহবুব আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘থানায় পরিচয় দেওয়ার পরও ওসি আরিফ হোসেন আমার ছেলেকে অপমানজনক কথা বলেছেন। পুলিশ প্রথমে আমাকে থানাতেই ঢুকতে দেয়নি।’
ভুক্তভোগী ক্রিকেটার নাঈম হাসান বলেন, ‘আমি পুলিশকে ব্যাগ চেক করতে বললেও তারা গলা টিপে ধরে বলে– “তুই গাড়িতে ওঠ”। আমাকে পাইপ দিয়ে মারা হয়েছে। পরিচয় দেওয়ার পরও তারা ক্ষান্ত হয়নি।’
ওসি আরিফুর রহমানের দাবি, অভিযানের বিষয়ে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না। তার ভাষ্য, ‘রাতে কাজ শেষে বের হওয়ার সময় তাকে থানায় আনা হয়। আমি পরিচয় পেয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছি।’ অথচ ওসির এই বক্তব্যের সঙ্গে নাঈমের বাবার অভিযোগের অমিল রয়েছে।
শনিবার সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করে মামলা করেছেন। এরপর অভিযুক্তদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী নাঈমের বাসায় গিয়ে পুলিশের এ ধরনের আচরণকে ‘চরম অপেশাদার’ বলে স্বীকার করেছেন এবং বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
সিএমপির একাধিক সূত্রে জানা যায়, ওসি আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা সময়ে ঘুষ গ্রহণ, ভূমি দখল ও মাদক কারবারিদের সহায়তাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা পরিচয় দিয়ে নতুন করে সক্রিয় হন। তার এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।