ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের নেপথ্যে ‘সোনা চোরাচালানের তথ্য’


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৩ জুন, ২০২৬ সময় : ৮:০৮ পিএম

চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সোনা চোরাচালানের একটি চালান আটকের উদ্দেশ্যে বসানো চেকপোস্টে ভুল সন্দেহের শিকার হন এই ক্রিকেটার। পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশের নির্দেশে তাকে মারধর করে থানায় নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে প্রায়ই সোনা চোরাচালানের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার রাতেও সোনার একটি চালান পাচারের তথ্য পেয়ে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে চেকপোস্ট বসানো হয় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানের নির্দেশে। অভিযানে খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও সোর্স অংশ নেন।

সূত্র জানায়, বিমানবন্দরের সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামান পুলিশ সদস্যরা। ওই অটোরিকশাতেই ছিলেন নাঈম হাসান। পুলিশ সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, নাঈম তার পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছেন। এ সময় বাকবিতণ্ডার মধ্যে লোকজন জড়ো হয় এবং নাঈমকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে শনাক্তও করে। কিন্তু তাতে কর্ণপাত না করে পুলিশের সোর্স তাকে মারধর শুরু করেন। পরে ওসি আরিফুর রহমানের নির্দেশে এসআই শফিকুল তাকে থানায় নিয়ে যান।

থানায় নেওয়ার পর পরিচয়পত্র দেখানোর পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। নাঈম জানান, ওসির সামনে তাকে চোখ নামিয়ে কথা বলতে হুমকি দেওয়া হয়। তবে ঠিক সেই মুহূর্তে ওসির মোবাইলে একটি কল আসার পর তার সুর পুরোপুরি বদলে যায় এবং তিনি নমনীয় হয়ে পড়েন।

নাঈমের বাবা মাহবুব আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘থানায় পরিচয় দেওয়ার পরও ওসি আরিফ হোসেন আমার ছেলেকে অপমানজনক কথা বলেছেন। পুলিশ প্রথমে আমাকে থানাতেই ঢুকতে দেয়নি।’

ভুক্তভোগী ক্রিকেটার নাঈম হাসান বলেন, ‘আমি পুলিশকে ব্যাগ চেক করতে বললেও তারা গলা টিপে ধরে বলে– “তুই গাড়িতে ওঠ”। আমাকে পাইপ দিয়ে মারা হয়েছে। পরিচয় দেওয়ার পরও তারা ক্ষান্ত হয়নি।’

ওসি আরিফুর রহমানের দাবি, অভিযানের বিষয়ে তিনি আগে থেকে অবগত ছিলেন না। তার ভাষ্য, ‘রাতে কাজ শেষে বের হওয়ার সময় তাকে থানায় আনা হয়। আমি পরিচয় পেয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছি।’ অথচ ওসির এই বক্তব্যের সঙ্গে নাঈমের বাবার অভিযোগের অমিল রয়েছে।

শনিবার সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করে মামলা করেছেন। এরপর অভিযুক্তদের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী নাঈমের বাসায় গিয়ে পুলিশের এ ধরনের আচরণকে ‘চরম অপেশাদার’ বলে স্বীকার করেছেন এবং বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

সিএমপির একাধিক সূত্রে জানা যায়, ওসি আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা সময়ে ঘুষ গ্রহণ, ভূমি দখল ও মাদক কারবারিদের সহায়তাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা পরিচয় দিয়ে নতুন করে সক্রিয় হন। তার এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর