ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৭ দফা দাবি না মানলে আরেকটি বিপ্লব হবে: জামায়াত আমীর আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় সুইজারল্যান্ডে রুমমেটের মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি গ্রেপ্তার আজ থেকে শুরু হচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম মাঝপথেই সফর বাতিল করে দেশে ফিরলেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন রাশিয়ার হামলা রুখতে ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র নেতানিয়াহুকে হটিয়ে বিকল্প সরকার গঠনে আলোচনায় বিরোধীরা তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় বাবার মামলা, বন্ধু দ্বীপ গ্রেপ্তার ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ শুরু

সংবাদ সম্মেলনে নাঈম হাসান

ফোন পেয়ে ওসি বলেন ‘ভাইয়া বসেন’, তার আগে বলেন ‘চোখ নামিয়ে কথা বল’


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৩ জুন, ২০২৬ সময় : ৮:১২ পিএম

পুলিশের উগ্র আচরণের শিকার হয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে চেকপোস্টে তাকে থামিয়ে হেনস্তা ও মারধর করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনার নেপথ্যে পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার ও অদ্ভুত আচরণের অভিযোগ করেছেন নাঈম ও তার পরিবার।

শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও এলাকায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নাঈম হাসান জানান, কোনো কারণ ছাড়াই সিএনজি অটোরিকশা থেকে নামিয়ে তাকে মারধর করা হয়। নাঈম বলেন, ‘সিএনজি থেকে নামার পর কোনো কিছু যাচাই না করেই পুলিশ আমার কলার চেপে ধরে। আমি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম।’

থানায় ওসির আচরণের বর্ণনা দিয়ে এই ক্রিকেটার জানান, নিজের পরিচয় দেওয়ার পর ওসি তাকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘চোখ নিচে নামিয়ে কথা বল।’ ঠিক ওই মুহূর্তেই ওসির মোবাইলে একটি কল আসে। কারো সাথে কথা বলার পর ওসির সুর পুরোপুরি বদলে যায়। তিনি তখন নমনীয় হয়ে বলেন, ‘ভাইয়া আপনি বসেন।’ অথচ কিছুক্ষণ আগেই তার আচরণ ছিল চরম উদ্ধত।

নাঈম আরও বলেন, ‘পুলিশ আমার ব্যাগ তল্লাশি করতে চায়নি। পরে ডিসি স্যারের উপস্থিতিতে আমি নিজেই ব্যাগ ও সিএনজি তল্লাশি করিয়েছি, যাতে কোনো নাটক করার সুযোগ না থাকে। অথচ ওরা আমাকে জোর করে থানায় নিয়ে গিয়েছিল।’ নাঈম জানান, ফোন পাওয়ার পর তিনি তামিম ইকবালের সাথে ওসির কথা বলিয়ে দেন। সে সময় ওসি তামিম ভাইয়ের সাথে কথা বলার সময়ও মিথ্যা তথ্য দিচ্ছিলেন এবং আমাকে ইশারায় চুপ থাকতে বলছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে নাঈমের বাবা সাবেক কাউন্সিলর মাহবুবুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ওসি তো ব্যাগ দেখেই বুঝতে পেরেছিলেন ও একজন খেলোয়াড়। তারপরও পরিচয় পাওয়ার পর ‘চোখ নামিয়ে কথা বল’—এ কেমন সৌজন্যতা? পুলিশের এই বিভাগীয় সাসপেনশন কোনো বিচার নয়। আমরা চাই এদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে এনে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।’

উল্লেখ্য, নাঈম হাসান বর্তমানে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় আছেন। শুক্রবার রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে ফেরার পথে এই ঘটনার শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় শনিবার মামলা দায়েরের পর খুলশী থানার অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশের বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি ঘটনার পেছনে অন্য কোনো চক্রান্ত আছে কি না, তা নিয়েও নাঈমের পরিবার প্রশ্ন তুলেছে। তারা মনে করেন, এসআই কামরুজ্জামান নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা ভুল তথ্য দিয়ে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিলেন। পুরো ঘটনায় পুলিশের অপেশাদারিত্ব ও ক্ষমতার দাপট আবারও সামনে এসেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর