মোঃ বাকী অনিক,কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১৪ জুন) সকালে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত যুবকের নাম সুমন (২৫)। তিনি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার শিবপুর গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ভোরের দিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের রতনপুর এলাকার পাশে এক যুবকের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। প্রথমে বিষয়টি অনেকের নজরে না এলেও সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে লোকজন জড়ো হতে শুরু করে। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানালে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে।
খবর পেয়ে লাকসাম ক্রসিং থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পাশাপাশি সদর দক্ষিণ মডেল থানার পুলিশ সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত হন। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের সময় ঘটনাস্থল ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা দেখা যায়। কেউ এটিকে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা বলে ধারণা করছেন, আবার কেউ হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সকালে তারা রাস্তার পাশে একজন ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। প্রথমে তারা বিষয়টি বুঝতে না পারলেও পরে কাছে গিয়ে নিশ্চিত হন যে ওই ব্যক্তি মারা গেছেন। এরপরই তারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
নিহত সুমনের স্বজনদের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্বজনদের দাবি, সুমনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা প্রয়োজন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে কি না এবং মৃত্যুর কারণ কী—তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য তদন্ত চলছে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় হলে ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থলের আশপাশের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সঙ্গেও কথা বলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ বিষয়ে লাকসাম ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওসমান গনি বলেন, “৯৯৯-এ কল পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। এখানে সদর দক্ষিণ মডেল থানার পুলিশও রয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। এটি সড়ক দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড—সেটি এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।”
পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের মতে, মহাসড়কটিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এ ধরনের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ বেরিয়ে এলে জনমনে বিরাজমান নানা প্রশ্নেরও উত্তর মিলবে।
এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে সুমনের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, তদন্তে কোনো ধরনের গাফিলতি করা হবে না এবং সব তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বর্তমানে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সুমনের মৃত্যু দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে—সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে। একই সঙ্গে তারা নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পরই সুমনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ততক্ষণ পর্যন্ত ঘটনাটি রহস্যজনক মৃত্যু হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ঘটনার প্রতিটি দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।